ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর – সন্ধ্যা সময় মগবাজারের দিলু রোড সংলগ্ন নিউ ইস্কাটন রোডে ককটেল বোমা বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে ২১ বছর বয়সী মোটর মেকানিক সিয়াম মজুমদার নিহত হন। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা পৌঁছে, তবে বেঁচে থাকা কোনো আহত পাওয়া যায়নি। বোমাটির ধ্বংসাত্মক প্রভাবের ফলে আশেপাশের গাছপালা ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বোমা বিস্ফোরণের পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ফোরেনসিক দলকে তদন্তে যুক্ত করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরণটি হস্তনির্মিত ককটেল বোমা ব্যবহার করে সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছু সন্দেহজনক উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে, যা বিশ্লেষণের জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।
ইসলামিক জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান, নিজের ফেসবুক পেজে ঘটনার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি মৃতের আত্মার জন্য দোয়া জানিয়ে, পরিবারকে ধৈর্য্য ও সহনশীলতা কামনা করেন। পোস্টে তিনি সিয়ামের জন্য আল্লাহর মাগফিরা ও রহমত প্রার্থনা করেন এবং পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে জানান।
শফিকুর রহমানের মতে, এই দুঃখজনক ঘটনার পেছনে সরকারের অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায় রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শারিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার দায়ী অপরাধীদের গ্রেফতার না করা এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়াই এই প্রাণহানির মূল কারণ। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, এক গোপন গোষ্ঠী দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য গোপন আক্রমণ চালাচ্ছে।
আমীর আরও জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনকে তাদের দায়িত্ব সৎভাবে পালন করতে হবে এবং জনসাধারণকে এমন সহিংসতার বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে আহ্বান জানান। তিনি জনগণকে সতর্কতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরোধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে নির্দেশ দেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাটিকে গৃহীত করে, তদন্তে বিশেষ দল গঠন করে এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা জানান, বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের জন্য ফোরেনসিক বিশ্লেষণ চলমান। এছাড়া, স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর, মগবাজার থানা থেকে একটি FIR (প্রথম তথ্য প্রতিবেদন) দাখিল করা হয়েছে এবং মামলাটি ডিএসডি (ডিপার্টমেন্ট অফ সিকিউরিটি) তে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা হলে আদালতে দায়ের করা হবে এবং মামলাটি দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নজরদারিতে থাকবে।
শারিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই ঘটনার সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে তদন্তকারী দল অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করছে। শফিকুরের উল্লেখিত গোপন গোষ্ঠীর পরিচয় ও কার্যক্রম সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তা সংস্থা এই দিকেও সতর্কতা অবলম্বন করছে।
এই ঘটনার পর, শহরের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষকে আহ্বান করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন হিংসাত্মক আক্রমণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।
বোমা বিস্ফোরণ ও সিয়ামের মৃত্যুর শোকের মধ্যে, দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ও অপরাধমূলক গোষ্ঠীর কার্যক্রমের প্রতি জনসাধারণের উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হল, তদন্তকে দ্রুততর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হুমকি থেকে নাগরিকদের রক্ষা করা।



