গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালিপাড়া‑তুংগিপাড়া) আসনে স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মোহাজোতের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী গোবিন্দা চন্দ্র প্রামাণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এই আসনটি পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়ে ছিল। প্রামাণিকের প্রার্থী ঘোষণা গোপালগঞ্জ জেলার রিটার্নিং অফিসারকে বিকাল ৪:৩০ টার দিকে নথিপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে।
গোবিন্দা চন্দ্র প্রামাণিকের রাজনৈতিক পটভূমি মূলত হিন্দু মোহাজোতে; তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন এবং আইনজীবীর পেশা পালন করেন। পার্টি সংযুক্তি না থাকায় তিনি নিজেকে ‘নিরপেক্ষ’ বলে উল্লেখ করেন এবং পার্টি শৃঙ্খলার কারণে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারা কঠিন হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রামাণিকের মন্তব্যে তিনি বলেন, “আমি নিজেকে নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে দেখি। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার কোনো সংযোগ নেই এবং আমি কখনোই দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হইনি। দলীয় শৃঙ্খলা প্রায়শই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের সমস্যায় হস্তক্ষেপ করে। আমি সেই সীমা অতিক্রম করে জনগণের স্বর হতে চাই।” এই বক্তব্য থেকে দেখা যায় তিনি পার্টি-নির্ভরতা ছাড়াই জনগণের স্বার্থে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রার্থী তাদের নামের তালিকায় যুক্ত করেছেন। বিএনপি থেকে এস এম জিলানি, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) থেকে আরিফুল দরিয়া, জামায়াত‑ই‑ইসলামি থেকে এম এম রেজাউল করিম, গন অধিকার পরিষদ থেকে আবুল বশার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মারুফ শেখ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি থেকে শেখ সালাউদ্দিন, খেলাফত মজলিস থেকে ওলি আহমেদ এবং স্বাধীন প্রার্থীদের মধ্যে মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন অন্তর্ভুক্ত। সকল প্রার্থীর নাম নির্বাচন কমিশনের নথিতে রেকর্ড হয়েছে এবং তারা প্রত্যেকেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এই বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক দৃশ্যকে নতুন মোড় দিতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগ এই আসনে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে; তবে স্বাধীন প্রার্থীর প্রবেশ এবং অন্যান্য পার্টির প্রার্থীদের সমন্বয় ভোটের ভাগে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে হিন্দু মোহাজোতের সমর্থকগণ ও স্থানীয় স্বতন্ত্র ভোটারগণ প্রামাণিকের প্রতি সমর্থন জানাতে পারেন, যা ঐতিহ্যবাহী ভোটারবেসকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী প্রার্থীরা ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের নামের নথি জমা দেবেন এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। গোপালগঞ্জের নির্বাচনী কর্মীরা এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়ার জন্য তদারকি করছেন। ভোটের ফলাফল গোপালগঞ্জের রাজনৈতিক শক্তির পুনর্বিন্যাসে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে সকল প্রার্থীই জনগণের মঙ্গলের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
একই সময়ে, রাজধানীর মগবাজারে নিউ ইস্কাটন রোডে ককটেল বিস্ফোরণে ২১ বছর বয়সী সিয়াম মজুমদার নিহত হয়েছেন; তিনি একজন মোটর মেকানিক ছিলেন। এই দুঃখজনক ঘটনা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচন দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রামাণিকের স্বাধীন প্রার্থীতা এবং অন্যান্য পার্টির প্রার্থীদের সমন্বয় ভোটারদের পছন্দের বৈচিত্র্যকে প্রতিফলিত করবে। নির্বাচনী কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে ভোটাররা স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশে তাদের ভোট দিতে পারেন।



