বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সর্বোচ্চ ঘুষ গ্রহণকারী সরকারি সংস্থা হিসেবে বিবিএসের সাম্প্রতিক জরিপে প্রকাশ পেয়েছে। জরিপটি ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে ২০২৫’ নামে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশব্যাপী পরিচালিত হয় এবং ফলাফল বুধবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত হয়। অনুষ্ঠানে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি সেবা পাওয়ার সময় মোট ৬৩.২৯ শতাংশ নাগরিককে ঘুষ দিতে হয়েছে। এই সংখ্যা দেশের বিভিন্ন স্তরে সেবা গ্রহণের সময় ঘটিত ঘুষের মাত্রা নির্দেশ করে। বিশেষ করে, উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের ঘুষ দেওয়ার প্রবণতা নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর তুলনায় বেশি দেখা গেছে।
বিআরটিএকে ঘুষের হার অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে। জরিপে প্রকাশিত হয়েছে যে, বিআরটিএর সেবা গ্রহণের সময় ৫৭.৯৬ শতাংশ মানুষকে ঘুষ দিতে হয়েছে। একইভাবে, পাসপোর্ট অফিসে সেবা নেওয়ার সময় ৫৭.৪৫ শতাংশ নাগরিককে ঘুষ দিতে হয়েছে। এই দুই সংস্থা ছাড়া অন্যান্য সরকারি দপ্তরে ঘুষের হার তুলনামূলকভাবে কম।
২০২৪ সালে সরকারি সেবা গ্রহণকারী নাগরিকদের মধ্যে ৩১.৬৭ শতাংশকে ঘুষ দিতে হয়েছে, যা মোট সেবা গ্রহীতার প্রায় এক তৃতীয়াংশের সমান। লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরুষদের মধ্যে ঘুষ দেওয়ার হার ৩৮.৬২ শতাংশ, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে তা ২২.৭১ শতাংশে সীমাবদ্ধ।
সেবার গুণগত মানের দিক থেকে, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৪৭.১২ শতাংশ জনগণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবহার করেন এবং এর মধ্যে ৭২.৬৯ শতাংশ ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি প্রকাশ পেয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সেবার ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৮১.৫৬ শতাংশ এবং ৭৮.২০ শতাংশ নাগরিক সন্তুষ্টি জানিয়েছেন। নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে ৮৪.৮১ শতাংশ মানুষ রাতের বেলা একা চলাফেরা করতে নিরাপদ বোধ করেন।
বিভিন্ন জেলার ঘুষের হার তুলনা করলে নোয়াখালীর হার সর্বোচ্চ, যেখানে ৫৭.১৭ শতাংশ নাগরিককে সেবা পেতে ঘুষ দিতে হয়েছে। এর পর কুমিল্লা (৫৩.৪৭ শতাংশ), ফরিদপুর (৫১.৭০ শতাংশ), ভোলা (৪৯ শতাংশ) এবং সিরাজগঞ্জ (৪৮.৩৭ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘুষের হার সর্বনিম্ন, মাত্র ১০.৪৯ শতাংশ নাগরিককে সেবা গ্রহণের সময় ঘুষ দিতে হয়েছে।
বিআরটিএ-তে ঘুষের উচ্চ হার সরকারী সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নীতি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। বিবিএসের এই জরিপের ফলাফল নীতি নির্ধারক ও তদারকি সংস্থাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ঘুষের হার কমাতে কঠোর শাস্তি, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।



