বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা এবং কন্যা জাইমা সহ লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্টে রাত ১০:১৫ (বাংলাদেশ সময়) পৌঁছেছেন। এ সময়ে তিনি লন্ডনের নিজ বাসা থেকে সন্ধ্যা ৮ টার দিকে পরিবারের সঙ্গে রওনা হন। এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা স্বাগত জানাতে সমাবেশ করেন।
হিথ্রো থেকে তরিকের প্রস্থান নির্ধারিত হয়েছে বাংলাদেশ বিমান (বিমান বাংলাদেশ) এর নিয়মিত ফ্লাইটে, যা রাত ১২:১৫ (বাংলাদেশ সময়) ঢাকা গন্তব্যে উড়ে যাবে। বিমানটি হিথ্রো থেকে প্রস্থান করার আগে তরিকের নিরাপত্তা দল এবং পার্টির উচ্চপদস্থ সদস্যরা শেষ প্রস্তুতি নেন।
ঢাকায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তরিককে বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা স্বাগত জানাবে বলে জানানো হয়েছে। স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর তিনি রাজধানীর জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে, যাকে ৩০০ ফুট রোড নামেও পরিচিত, দিয়ে পার্টির স্বাগত স্থানে গমন করবেন।
স্বাগত স্থানে তরিকের প্রধান কাজ হবে পার্টির নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের ধন্যবাদ জানানো এবং দেশের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ প্রদান করা। এই ভাষণে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পার্টির কৌশল এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ভাষণ শেষ করার পর তরিকের পরিকল্পনা রয়েছে তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বাশুন্ধরা এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল, বসুন্ধরায় ভিজিট করা। এই ভিজিটটি পার্টির অভ্যন্তরে এবং সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্যবদ্ধ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তরিকের লন্ডন থেকে ফিরে আসা সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে। তার উপস্থিতি বিশেষত আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির সংগঠন ও ক্যাম্পেইন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে পারে। পার্টির উচ্চপদস্থ নেতারা ইতিমধ্যে তরিকের ফিরে আসা নিয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা চালু করেছেন।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তরিকের ফিরে আসা নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পেয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের কিছু মুখ্য মুখে তরিকের ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তারা তরিকের কোনো কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ না করে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানাতে আহ্বান জানিয়েছে।
ঢাকার মগবাজারের দিলু রোড সংলগ্ন নিউ ইস্কাটন রোডে ককটেল বিস্ফোরণে ২১ বছর বয়সী সিয়াম মজুমদার, যিনি মোটর মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন, নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ ও দমকল দল পৌঁছায় এবং বিস্ফোরণের কারণ তদন্তের জন্য ফরেনসিক দল গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বিস্ফোরণ ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তরিকের ফিরে আসা এবং একই সময়ে ঢাকায় ঘটিত সন্ত্রাসী হামলা উভয়ই দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উভয় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও বিরোধী দলগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপি তরিকের ফিরে আসা নিয়ে ইতিমধ্যে পার্টির বিভিন্ন শাখায় সমাবেশের পরিকল্পনা চালু করেছে এবং পার্টির কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে। তরিকের উপস্থিতি পার্টির সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।



