মধ্য সন্ধ্যা প্রায় সাতটায় ঢাকার নিউ ইস্কাটন রোডে মগবাজার‑মৌচাক ফ্লাইওয়েট থেকে নিক্ষিপ্ত ককটেল বোমা এক যুবকের মাথায় আঘাত হানে। ২১ বছর বয়সী সিয়াম মজুমদার, যিনি স্থানীয় মোটর পার্টস শপে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন, বোমা ফাটার পরই নিহত হন।
সিয়াম মজুমদার ছিলেন এলাকার একটি গাড়ি সাজসজ্জা দোকানে তিন-চার বছর ধরে কর্মরত। তার পেশা ছিল গাড়ির যান্ত্রিক মেরামত, এবং তিনি সন্ধ্যাবেলা চা পান করার জন্য কাছের স্টলে গিয়েছিলেন। চা কাপ হাতে নিয়ে ফিরে আসার পথে বোমা তার মাথায় আঘাত করে, ফলে তিনি তৎক্ষণাৎ প্রাণ হারান।
বিক্রিত চা শেষ করার পর সিয়ামের পিতা, আলি আকবর মজুমদার, যিনি সিএনজি চালিত রিকশা চালান, ঘটনাস্থল থেকে শোক প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বোমা আমার ছেলের মাথায় আঘাত করে, যখন সে চা কাপ ফিরিয়ে আনছিল। কেন সাধারণ মানুষের মাথায় বোমা পড়ে?” তিনি সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট উত্তর চেয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, বোমা নিক্ষেপের সময় ফ্লাইওয়েটের সেই অংশের আলো নিভে ছিল। টেকনিশিয়ানরা জানিয়েছেন, বোমা নিক্ষেপের স্থান থেকে ফ্লাইওয়েটের বড় অংশের আলো বন্ধ ছিল এবং সেখানে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপিত ছিল না। এই তথ্য টেজগাঁও বিভাগের ডেপুটি কমিশনার ইবনে মিজান নিশ্চিত করেন।
হাতিরঝিল থানা থেকে তদন্তে জড়িত সাব-ইনস্পেক্টর সাইদুর রহমান জানান, বোমা ফাটার পর সিয়ামের দেহকে রাত আটটায় হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। দেহটি পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মরগে পাঠানো হয়েছে অটোপ্সি করার জন্য, যা বৃহস্পতিবার করা হবে।
সিয়ামের পরিবার খুলনা জেলার দিঘুলিয়া উপজেলায় বসবাস করে এবং নিউ ইস্কাটনের “২০০০ গলি” ঠিকানায় বাস করতেন। তার পিতা ও অন্যান্য আত্মীয়রা শোকের স্রোতে ডুবে আছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা চাচ্ছেন।
সহকর্মী ওয়াহিদুল হাওলাদার জানান, সিয়াম জাহিদ কার ডেকোরেশন শপে তিন-চার বছর ধরে কাজ করছিলেন। সন্ধ্যা ছয়টায় তিনি কাজ শেষ করে চা পান করার জন্য বেরিয়ে যান এবং পরে সহকর্মীরা রাস্তায় রক্তমাখা দেহটি পেয়ে শোক প্রকাশ করেন।
হাতিরঝিল থানার তদন্ত দল এখনো দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্লাইওয়েটের আলো নিভে থাকা এবং সিসিটিভি অনুপস্থিতি তদন্তে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অফিসাররা সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার পর সরকারী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে আলো ব্যবস্থা, ক্যামেরা ইনস্টলেশন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।



