ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি, তেহরানের ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পর সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন যে যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের আক্রমণে ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক সুবিধাগুলোর পরিদর্শন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক এজেন্সি (IAEA) স্পষ্ট পোস্ট-যুদ্ধ শর্তাবলী নির্ধারণ না করা পর্যন্ত অনুমোদন করা হবে না।
এসলামি জোর দিয়ে বলেন, যদি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া গৃহীত হয়, তবে IAEA তা প্রকাশ করে যাতে ইরান সেভাবেই কাজ করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইরান ইতিমধ্যে IAEA-কে তার অবস্থান লিখিতভাবে জানিয়েছে এবং পারমাণবিক সুবিধা যেসব আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আওতায় আছে, সেসবের ওপর সামরিক আক্রমণ ঘটলে নিয়মগুলো স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত ও আইনগতভাবে স্থাপন করা দরকার।
জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী তিনটি প্রধান ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্র—ফোর্ডো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহান—বাঙ্কার‑বাস্টার গুলি ব্যবহার করে ধ্বংস করে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই আক্রমণে ৪৩০ের বেশি মানুষ প্রাণ হারায় এবং হাজারো মানুষ আহত হয়।
এই আক্রমণগুলো ইসরায়েলের অপ্রত্যাশিত হামলার পরপর ঘটে, যেখানে ইসরায়েল ইরানের ভূখণ্ডে বহু পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করে। সেই হামলায় শত শত ইরানি নাগরিক, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়।
ইরান সরকার পারমাণবিক অস্ত্রের সন্ধান না থাকা দাবি করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এই দাবিকে পুনরায় নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, ইসরায়েলকে অপ্রকাশিত পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে ব্যাপকভাবে সন্দেহ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণের পর ইরান IAEA-র পারমাণবিক পরিদর্শক দলকে দেশ থেকে বের করে দেয় এবং এজেন্সিকে আক্রমণকে নিন্দা না করার জন্য সমালোচনা করে। ইরান যুক্তি দেয় যে, পারমাণবিক সুবিধা সুরক্ষার অধীনে থাকলেও সেগুলোর ওপর সামরিক হামলা করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
জাতিসংঘের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বন্যা, সেচ বা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বিপজ্জনক শক্তি ধারণকারী স্থাপনার ওপর সরাসরি আক্রমণ নিষিদ্ধ। এসলামি উল্লেখ করেন, যদি IAEA এমন আক্রমণকে সমর্থন বা সহ্য করে, তবে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাসের সংকেত দেয়।
ইরান ভবিষ্যতে IAEA-র সাথে আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট পোস্ট‑যুদ্ধ নীতি গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যাতে পারমাণবিক সাইটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়। তবে এ পর্যন্ত IAEA কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো উপস্থাপন করেনি, ফলে ইরানের পরিদর্শন অস্বীকারের অবস্থান বজায় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি IAEA দ্রুত স্পষ্ট নির্দেশনা না দেয়, তবে পারমাণবিক সাইটের পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা ইরানের পারমাণবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই পরিস্থিতি পারমাণবিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে IAEA ও ইরানের মধ্যে আলোচনার ফলাফল নির্ধারণ করবে যে, পারমাণবিক সুবিধাগুলোর পরিদর্শন পুনরায় শুরু হবে কিনা এবং কিভাবে পোস্ট‑যুদ্ধ শর্তাবলী গঠন করা হবে।



