বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমানের দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে একটি স্বাগত অনুষ্ঠান আয়োজনের সম্ভাবনা নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে কিনা তা নির্ধারণের দায়িত্ব রিটার্নিং অফিসারের ওপর থাকবে, নির্বাচন কমিশনের সচিব আকতার আহমেদ আজ বিকেলে এগ্রাগাঁ, ঢাকা নির্বাচনী ভবনে জানিয়েছেন। তরিকের আগমনের তারিখ আগামীকাল নির্ধারিত, এবং স্বাগত অনুষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা রিটার্নিং অফিসারই পর্যালোচনা করবেন।
সচিব আকতার আহমেদ এছাড়াও উল্লেখ করেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধনের শেষ তারিখ ২৫ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক প্রবাসী নাগরিক ভোটের সুযোগ পাবে।
অধিকন্তু, নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী শনিবার নির্ধারিত ব্যাংকগুলো খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। এই ব্যবস্থা প্রার্থীদের এবং তাদের এজেন্টদের নামানুমোদন সংক্রান্ত আর্থিক কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয়, যাতে প্রক্রিয়ায় কোনো বিলম্ব না ঘটে।
তরিকের স্বাগত অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, সচিব স্পষ্ট করে বলেন, “এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারই সিদ্ধান্ত নেবে।” তিনি যোগ করেন, নির্বাচন কোডের প্রতি সকলের সমান দায়িত্ব রয়েছে এবং তা মেনে চলা প্রত্যাশা করা হয়।
কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন কোডের প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট সতর্ক নয় বলে অভিযোগ তুলেছে। এ বিষয়ে সচিবের মন্তব্য ছিল, “কেউ কেউ আমাদের পর্যবেক্ষণকে যথেষ্ট না বলে সমালোচনা করতে পারেন, আবার কেউ কেউ আমাদেরকে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য হল সবাইকে কোড মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা।” তিনি এভাবে কোডের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
তরিকের দেশে ফিরে স্বাগত অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে রিটার্নিং অফিসারকে এই বিষয়ে যথাযথ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো লঙ্ঘন পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট শাস্তি প্রয়োগের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
নির্বাচনী সময়সূচি অনুযায়ী, প্রার্থীদের নামানুমোদন প্রক্রিয়া এবং ভোটার নিবন্ধন শেষের দিকে এগিয়ে চলেছে। পোস্টাল ভোটের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকগুলো খোলা রাখার ব্যবস্থা এই সময়ে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তরিকের স্বাগত অনুষ্ঠান নির্বাচন কোডের প্রয়োগে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তবে সব মন্তব্যই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার দিকে মনোযোগী।
নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী পরিবেশকে সুসংহত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং প্রার্থীদের মধ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয়। রিটার্নিং অফিসারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চললেও, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কোডের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



