সিলিকন ভ্যালির খাবার‑বর্জ্য স্টার্ট‑আপ মিল, তার সহ‑প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ম্যাট রজার্সের নেতৃত্বে, অ্যামাজন এবং হোল ফুডসের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এই চুক্তি কোম্পানির বাণিজ্যিক গ্রাহকদের দিকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ, যা সিরিজ‑এ তহবিল সংগ্রহের সময়ই নির্ধারিত ছিল।
হোল ফুডস ২০২৭ সাল থেকে তার সব শাখায় মিলের বাণিজ্যিক‑স্কেল খাবার‑বর্জ্য বিন স্থাপন করবে। এই বিনগুলো ফল‑সবজি বিভাগ থেকে বর্জ্যকে পিষে শুষ্ক করে, ফলে ল্যান্ডফিল ফি কমে এবং উৎপাদিত শুষ্ক বর্জ্যটি কোম্পানির ডিম উৎপাদন ইউনিটের জন্য পোষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এভাবে হোল ফুডসের অপারেশনাল খরচ হ্রাস পাবে।
বিনগুলোতে সংযুক্ত সেন্সর ডেটা সংগ্রহ করে হোল ফুডসকে কোন পণ্য বেশি বর্জ্য হয় এবং কেন তা বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করবে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহকরা স্টক ম্যানেজমেন্ট ও মূল্য নির্ধারণে আরও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, যা শেষ পর্যন্ত বর্জ্য কমাতে সহায়ক হবে। রজার্স উল্লেখ করেন, লক্ষ্য শুধুমাত্র বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে দক্ষতা বাড়ানো নয়, বরং উৎপাদন পর্যায়ে বর্জ্য হ্রাস করা।
মিলের প্রথম পণ্যটি কয়েক বছর আগে গৃহস্থালী ব্যবহারকারীদের জন্য বাজারে আনা হয়। নেস্ট থার্মোস্ট্যাটের পেছনের দল এই বিনগুলোকে নান্দনিক ও ব্যবহার‑সুবিধাজনকভাবে ডিজাইন করেছে, ফলে ব্যবহারকারীরা বর্জ্য কমাতে আনন্দ পান। রজার্সের মতে, গৃহস্থালী বাজারে প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রমাণ‑বিন্দু, ডেটা, ব্র্যান্ড ও গ্রাহক‑নিষ্ঠা গড়ে তোলা।
হোল ফুডসের অনেক কর্মচারীই প্রথমে এই বিনটি তাদের বাড়িতে ব্যবহার করে আসছিলেন। এই অভিজ্ঞতা কোম্পানির বিক্রয় কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রজার্সের দল শীর্ষ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে, যদি তারা বাড়িতে মিলের বিন ব্যবহার না করে থাকেন, তবে তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। এই পদ্ধতি গ্রাহকদের পণ্য সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে এবং চুক্তি সম্পন্ন করার সম্ভাবনা বাড়ায়।
মিল এবং হোল ফুডসের কথোপকথন প্রায় এক বছর আগে শুরু হয়। পরবর্তী কয়েক মাসে উভয় পক্ষের প্রযুক্তিগত ও ব্যবসায়িক দলগুলো সমন্বয় করে চূড়ান্ত শর্তাবলী নির্ধারণ করে। একই সময়ে, মিল অ্যামাজনের সঙ্গে তার বর্জ্য‑পরিচালনা সমাধানকে বৃহত্তর ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করার জন্য আলাপ চালিয়ে যায়। যদিও চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করা হলেও, উভয় সংস্থা বর্জ্য‑হ্রাস ও টেকসইতা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সুবিধা প্রত্যাশা করে।
এই চুক্তি মিলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এটি গৃহস্থালী বাজার থেকে বাণিজ্যিক বাজারে প্রবেশের সেতু হিসেবে কাজ করবে। হোল ফুডসের মতো বড় রিটেইল চেইনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব মিলকে বৃহত্তর ডেটা সংগ্রহের সুযোগ দেবে, যা ভবিষ্যতে পণ্য উন্নয়ন ও নতুন সেবা তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে।
অ্যামাজনের সঙ্গে সহযোগিতা মিলকে তার বর্জ্য‑পরিচালনা প্রযুক্তি অনলাইন শপিং ও লজিস্টিক্সে প্রয়োগের সম্ভাবনা খুলে দেবে। অ্যামাজন তার বিশাল গুদাম ও ডেলিভারি নেটওয়ার্কে বর্জ্য‑কমানোর সমাধান হিসেবে মিলের সিস্টেমকে ব্যবহার করতে পারে, যা পরিবেশগত দায়িত্ব এবং খরচ সাশ্রয়ের দিক থেকে উভয়েরই উপকারে আসবে।
বাজার বিশ্লেষকরা এই চুক্তিকে টেকসই প্রযুক্তি স্টার্ট‑আপের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। রিটেইল ও ই-কমার্স সেক্টরে বর্জ্য‑হ্রাসের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, মিলের মতো সমাধানগুলোকে স্কেল‑আপ করার প্রয়োজন বাড়বে। তবে, বাণিজ্যিক বিনের উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, এবং ডেটা গোপনীয়তা সংক্রান্ত নিয়মাবলী ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
মিলের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে হোল ফুডসের সব শাখায় বিন স্থাপন সম্পন্ন হবে, এবং একই সময়ে অ্যামাজনের নির্দিষ্ট গুদাম ও ডেলিভারি হাবেও পাইলট প্রকল্প চালু হবে। এই দুই বড় পার্টনারের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে মিলের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই খাবার‑বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে তার অবস্থান দৃঢ় হবে।
সংক্ষেপে, মিলের গৃহস্থালী থেকে বাণিজ্যিক বাজারে রূপান্তর, এবং অ্যামাজন ও হোল ফুডসের সঙ্গে চুক্তি, কোম্পানির বৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই পদক্ষেপগুলো শিল্পে বর্জ্য‑হ্রাসের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে, তবে স্কেল‑আপের সময় আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সতর্ক পরিকল্পনা প্রয়োজন।



