ইসলামিক জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকায় একটি বৃহৎ র্যালি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। র্যালির মূল লক্ষ্য হল শারিফ ওসমান বিন হাদি, ইনকিলাব মঞ্চা স্পোকসপার্সন, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে নিহত হয়েছেন, তার হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও ট্রায়াল নিশ্চিত করা। এছাড়া অবৈধ অস্ত্রের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যদের গ্রেফতারকেও র্যালির দাবির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
র্যালির দাবি তালিকায় শারিফ ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের দ্রুত বিচার, অবৈধ অস্ত্রের সনাক্তকরণ ও বাজেয়াপ্তি, এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার অন্তর্ভুক্ত। এই দাবিগুলো জামায়াতের রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
দলটির সহ-সচিব জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ র্যালি সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, র্যালির প্রস্তুতি বর্তমানে চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, র্যালির তারিখ ও মূল উদ্দেশ্য ইতিমধ্যে নির্ধারিত হলেও, স্থানীয় সমন্বয় ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকে এখনও আলোচনা চলছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাম্প্রতিক বৈঠকে র্যালি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় র্যালির সম্ভাব্য স্থান হিসেবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউকে প্রাথমিক প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত আলোচনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যালির সফলতা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ শহর ইউনিটের নেতারা ২২ ডিসেম্বর রাতের সমন্বয় বৈঠকে অংশ নেন। এই বৈঠকে র্যালি বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে দলীয় সচিব জেনারেল মিয়া গোলাম পোরওয়ার রয়েছেন। কমিটি র্যালির লজিস্টিক, নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয় কাজের দায়িত্বে থাকবে।
দলটি জেলা ও উপজেলা স্তর থেকে সমর্থকদের ঢাকায় আনার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে র্যালিতে বৃহৎ জনসমাগম নিশ্চিত করা এবং দলের ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। সমর্থকদের গমনাগমন ব্যবস্থা, বাসস্থান এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোও কমিটি পর্যবেক্ষণ করবে।
হামিদুর রহমান আজাদ র্যালি সংক্রান্ত আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, “বিবরণী এখনও চূড়ান্ত হয়নি, স্থান নির্ধারণে শেষ পর্যন্ত আলোচনা বাকি। সব কিছু ঠিকঠাক হলে আমরা সকলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব।” এই বক্তব্য র্যালির প্রস্তুতির স্বচ্ছতা ও সময়মত তথ্যপ্রদানকে গুরুত্ব দেয়।
একই সময়ে, শহরের একটি ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেল একটি চা দোকানে আঘাত হানায় একজন গ্রাহক নিহত হয়। ঘটনাটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং তদন্ত চলছে। যদিও র্যালি বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই, তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, র্যালি যদি বৃহৎ জনসমাগমের মাধ্যমে সফল হয়, তবে সরকারকে নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করতে বাধ্য করবে। একই সঙ্গে, দলীয় দাবি বাস্তবায়নের জন্য আইনসভার আলোচনায় নতুন দিক যোগ হতে পারে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে। র্যালির ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের মূল বিষয় হয়ে থাকবে।



