ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) আজ দ্য ডেইলি স্টার সদর দফতরে সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিনিধি দল পাঠায়। কেন্দ্রীয় সংগঠন সচিব শাহ ইফতেখার তারিকের নেতৃত্বে তিনজন সদস্য সন্ধ্যাবেলায় ঢাকা শহরের দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে উপস্থিত হন, যেখানে তারা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
প্রতিনিধি দলটি দ্য ডেইলি স্টার অফিসে প্রবেশের পর সরাসরি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংলাপের সুযোগ পায়। ইফতেখার তারিক বলেন, “বিরোধ প্রকাশে যদি হিংসা ব্যবহার করা হয়, তা সম্পূর্ণ অমানবিক। কোনো বিরোধ থাকলে তা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ও যুক্তি দিয়ে প্রকাশ করা উচিত।” এই বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক মতবিরোধের সঠিক পদ্ধতি তুলে ধরেছেন।
ইফতেখার আরও উল্লেখ করেন, দেশের অগ্রগতির মুহূর্তে এই ধরনের আক্রমণ ঘটেছে, যা জাতির উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করতে চায়। তিনি বলেন, যারা দেশের অগ্রগতি থামিয়ে পিছিয়ে টানতে চায়, তাদের কোনো সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রতি শূন্য সহনশীলতা প্রকাশ করেছেন।
মিডিয়াকে সভ্য সমাজের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে ইফতেখার বলেন, “রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে ক্ষয় করা যায় না, যদি আমরা সত্যিকারের সভ্য জাতি গড়ে তুলতে চাই।” তিনি দ্য ডেইলি স্টারের মতো স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণকে গভীরভাবে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন এবং এ ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি রোধের আহ্বান জানান।
আইএবের নেতা সচেতন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং স্বার্থপর ব্যক্তিদের রাষ্ট্রের নজরে রাখতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বার্থপর ও অস্থির শক্তিগুলোকে রাষ্ট্রের যথাযথ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা দরকার, যাতে দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
দ্য ডেইলি স্টারের পরামর্শদাতা সম্পাদক কামাল আহমেদ প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা আশা করি গঠনমূলক বিতর্ক অব্যাহত থাকবে। রাজনৈতিক পার্থক্য স্বাভাবিক, এবং বিভিন্ন মতামত সমাজের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।” এভাবে তিনি মিডিয়ার স্বাধীনতা ও বহুমুখী মতবিনিময়ের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
কামাল আহমেদ আরও বলেন, বর্তমান সময়ে যে সহিংসতা দেখা দিচ্ছে, তা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই সন্ত্রাসবিরোধী দৃঢ় অবস্থান গৃহীত হলে তা জাতির স্বার্থে কাজ করবে। এ ধরনের দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাজে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে, এটাই তার প্রত্যাশা।
একই সময়ে, শহরের একটি ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেল একটি চা দোকানে পৌঁছায় এবং সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তির প্রাণহানি হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ককটেলটি উচ্চ গতিতে নিচের দিকে পড়ে গিয়ে আহত ব্যক্তিকে মারাত্মক আঘাত করে, ফলে জরুরি সেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাটি শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, আইএবের এই নিন্দা ও দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে সংলাপ ভবিষ্যতে মিডিয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। তবে একই সঙ্গে, ফ্লাইওভার থেকে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা ও কঠোর আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে। সরকার যদি এই দুইটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে মোকাবেলা করে, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পাবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্য ডেইলি স্টার অফিসে হামলার তীব্র নিন্দা এবং মিডিয়ার স্বাধীনতাকে রক্ষা করার আহ্বান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে, ফ্লাইওভার থেকে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা নিরাপত্তা নীতি ও জনসাধারণের সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে এই দুইটি বিষয়ের সমন্বিত সমাধান দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।



