ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারা ফারজানা হকের রায়ে আজ তিনজন সন্দেহভাজনকে জেলখানায় পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। এরা হলেন আজমির হোসেন আকাশ (২৭), জাকির হোসেন শান্তো (২৯) এবং নিয়াজ মাহমুদ ফারহান (২১), যাদের বিরুদ্ধে দৈনিক স্টার ও প্রথম আলো অফিসে ধ্বংস, আগুন লাগানো এবং লুটপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেটের দুইটি পৃথক আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুলিশ আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের আটক করা প্রয়োজন। আদালতের স্টাফের মতে, আজমিরকে দৈনিক স্টার অফিসে আক্রমণ সংক্রান্ত মামলায়, আর জাকির ও নিয়াজকে প্রথম আলো অফিসে আক্রমণ সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
দৈনিক স্টারের অপারেশনস প্রধান মিজানুর রহমান ২২ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানা-তে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ৩৫০ থেকে ৪০০ অচেনা ব্যক্তির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আদেশের ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে। একই দিনে প্রথম আলোর সিকিউরিটি প্রধান মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সজ্জাদুল কবিরও তেজগাঁও থানা-তে ৪০০ থেকে ৫০০ অচেনা ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেন।
দুইটি মামলায় উভয় সংস্থাই উল্লেখ করেছে যে, আক্রমণগুলো পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয় এবং এতে অফিসের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদুপরি, লুটপাটের সময় কিছু কর্মচারীর ব্যক্তিগত সামগ্রীও চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের নাম ও বয়স আদালতে রেকর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ শুনানিতে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। বর্তমানে, আদালত তাদের জেলখানায় পাঠানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্তকে ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত তিনজনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো রিলিজ শর্ত আরোপ করা হয়নি এবং তাদের জেলখানায় অবস্থান সম্পর্কে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দৈনিক স্টার ও প্রথম আলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উভয় সংস্থাই দাবি করেছে যে, আক্রমণের পূর্বে কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া যায়নি এবং নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা অপর্যাপ্ত ছিল।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আদেশের ধারাগুলি একসঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে, যা মামলাটিকে গুরুতর অপরাধের শ্রেণিতে রাখে। এই আইনের অধীনে অভিযুক্তদের ওপর কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, তদন্তকারী দল এখনো আক্রমণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সমন্বয়কারী ব্যক্তিদের সনাক্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, ধ্বংসযজ্ঞে ব্যবহৃত উপকরণ ও আগুনের উৎসের বিশ্লেষণও চলমান।
অধিক তথ্যের জন্য, সংশ্লিষ্ট থানা ও আদালতকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, মামলার অগ্রগতি ও পরবর্তী শুনানির তারিখ সম্পর্কে জনসাধারণকে সময়মতো জানানো হবে।
এই ঘটনার পর, মিডিয়া সংস্থাগুলি নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের কথা উল্লেখ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের রায়ে ধ্বংসযজ্ঞের দায়িত্বে থাকা তিনজনকে জেলখানায় পাঠানোর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার কঠোরতা প্রকাশ পেয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে সতর্কতা বৃদ্ধি পাবে।



