ঢাকার মোগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকায় সন্ধ্যায় একটি কাঁচা বোমা ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া হয়। বোমার আঘাতে কাছাকাছি চা স্টলে বসে থাকা ৩৫ বছর বয়সী সাইফুলের প্রাণহানি ঘটে। ঘটনাটি রাত ৭টা নাগাদ ঘটেছে বলে হাটিরঝিল পুলিশ স্টেশনের অপারেশনস ইনস্পেক্টর মোহিউদ্দিন জানান।
ইনস্পেক্টর মোহিউদ্দিনের মতে, সাইফুল সন্ধ্যাবেলা চা বিক্রি করা স্টলে চা পান করছিলেন। হঠাৎ উপরের ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেল তার দিকে গিয়ে সরাসরি তার দেহে আঘাত করে। বোমার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট শক ও ধ্বংসের ফলে সাইফুল ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে, তবে শারীরিক ক্ষতির মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে রক্তচাপ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মৃতদেহ স্থানীয় মেডিকেল পরীক্ষক দ্বারা পরীক্ষা করা হয় এবং পরে হাটিরঝিল থানা-ইনস্পেক্টরেটের হ্যান্ডলিং ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হয়।
হাটিরঝিল থানা-ইনস্পেক্টরেটের তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে বোমার অবশিষ্টাংশ, ফ্লাইওভারের ক্যামেরা রেকর্ডিং এবং আশেপাশের গৃহস্থালীর ভিডিও রেকর্ড সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে বোমাটি ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট ধরণ ও প্রস্তুতকারক সনাক্ত করতে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলমান।
পুলিশের মতে, ফ্লাইওভার থেকে বোমা ছোড়া কাজটি পরিকল্পিত হতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন বা গোষ্ঠীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাইওভারের নিচে থাকা ক্যামেরা ফুটেজ থেকে সন্দেহজনক গতি-প্রকৃতি সনাক্ত করা হবে এবং সম্ভাব্য অপরাধীর চিহ্নিতকরণে সহায়তা করবে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটিকে ‘সামাজিক নিরাপত্তা’ বিষয়ক জরুরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের আক্রমণ রোধে ফ্লাইওভার ও সড়ক সংযোগস্থলে নিরাপত্তা ক্যামেরা বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। এছাড়া, চা স্টল ও রাস্তার পাশে বসে থাকা সাধারণ মানুষদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় স্বশাসন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, বোমা ছোড়া কাজটি ‘উদ্বেগজনক অপরাধ’ এবং ‘মানবজীবনহানি’ হিসেবে দণ্ডনীয়। হাটিরঝিল থানা-ইনস্পেক্টরেটের তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং আদালতে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বিবেচনা করা হচ্ছে যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য গৃহস্থালীর সাক্ষী ও চা স্টলের কর্মীদের বিবৃতি সংগ্রহ করে মামলার প্রমাণভিত্তি শক্তিশালী করা হবে। এছাড়া, বোমা তৈরির উপকরণ ও সরবরাহ চেইন অনুসন্ধান করে অপরাধীর নেটওয়ার্ক উন্মোচন করা হবে।
এই ঘটনার পর, মোগবাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানায়। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই জনসাধারণকে শান্ত থাকতে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে তা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে আহ্বান জানিয়েছে।
সাইফুলের পরিবারকে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি, স্থানীয় সমাজের সমবেদনা ও সহায়তা জানানো হয়েছে। মৃতদেহের শেষকৃত্য সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও দাফন ব্যবস্থা পরিবারিক রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
এই ঘটনার পর, হাটিরঝিল থানা-ইনস্পেক্টরেটের তদন্ত চলমান এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি সকল সম্ভাব্য সূত্র অনুসন্ধান করে অপরাধীর সনাক্তকরণে তৎপর। ভবিষ্যতে এমন ধরনের হিংসাত্মক কাজ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।



