বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য সালাহুদ্দিন আহমেদ আজ গুলশানের পার্টি চেয়ারপার্সনের অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পার্টির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমানের আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া প্রথম তিন দিনের কর্মসূচি প্রকাশ করেছেন। তরিকের আগমনকালীন সময়ে, পার্টির উচ্চপদস্থ সদস্যরা তাকে দুপুর ১২টায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবে এবং সরাসরি জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট রোড) দিয়ে পার্টির রিসেপশন স্থানে নিয়ে যাবে, যেখানে তিনি দলের নেতা ও কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে জাতিকে সম্বোধন করবেন।
রিসেপশন শেষে তরিক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি গুলশান‑২-এ অবস্থিত নিজের বাড়িতে ফিরে আসবেন, যার পথে এয়ারপোর্ট রোড ও কাকলি মোড় অতিক্রম করবেন; এ দিনের জন্য অন্য কোনো অনুষ্ঠান নির্ধারিত নেই।
শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, জুমা নামাজের পর তরিক রহমান শের‑এ‑বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শোকসন্ধ্যা পালন করবেন এবং পরে সাভারের জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এই সফরটি পার্টির ঐতিহাসিক নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি সমর্থকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্য বহন করে।
শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, তরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের আগারগাঁও অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করবেন; তবে তিনি নিজে গিয়ে কাজ করবেন কিনা তা পরে নির্ধারণ করা হবে। একই দিনে ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ওসমান হাদির সমাধি পরিদর্শন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন এবং শ্যামলীর জাতীয় ট্রমাটোলজি ও অস্থি পুনর্বাসন ইনস্টিটিউটে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
সালাহুদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, তরিকের এই সফরের শেষের দিকে আরেকটি অনুষ্ঠান যোগ হতে পারে, যার বিস্তারিত পরে জানানো হবে। একই সময়ে, শহরের একটি ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেলের আঘাতে নিচের চা দোকানে বসে থাকা এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যা স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই ধারাবাহিক সফরগুলো তরিকের দেশে ফিরে আসার পর পার্টির সংগঠনমূলক কাজকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিকল্পিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তরিকের উপস্থিতি এবং এই ধরনের জনসম্মুখে অনুষ্ঠানগুলো বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



