22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদুদক আইন সংশোধন অধ্যাদেশ জারি, কমিশনের সদস্যসংখ্যা ও মানিলন্ডারিং ক্ষমতা বৃদ্ধি

দুদক আইন সংশোধন অধ্যাদেশ জারি, কমিশনের সদস্যসংখ্যা ও মানিলন্ডারিং ক্ষমতা বৃদ্ধি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অনুমোদনে ২৩ ডিসেম্বর দুদক আইন‑২০০৪-এ নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এই আইন সংশোধন শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তনই আনে না, বরং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ও তদন্তের পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করে। নতুন বিধান অনুসারে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে স্পষ্ট আইনি ভিত্তি প্রদান করা হয়েছে, যা পূর্বে কেবল বিধি‑নির্ধারিতভাবে পরিচালিত হতো।

অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য হল মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে দুদকের ক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং ঘুষ‑দুর্নীতির পাশাপাশি জালিয়াতি, প্রতারণা, চোরাচালান, কর‑সংক্রান্ত অপরাধ ও পুঁজিবাজারের অবৈধ কার্যকলাপকে তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা। সংশোধিত তফসিলের তিনটি উপধারায় প্রথমবারের মতো এনফোর্সমেন্ট ও গোয়েন্দা কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, ফলে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এখন সরাসরি মূল আইনের অধীনে কাজ করবে।

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২‑এর অধীনে অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্তের ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বে দুদক কেবল ঘুষ‑দুর্নীতি সংক্রান্ত মানিলন্ডারিং তদন্তে সীমাবদ্ধ ছিল; এখন দলিল‑দস্তাবেজ জালকরণ, দেশি‑বিদেশি মুদ্রা পাচার, শুল্ক‑সংক্রান্ত অপরাধ এবং কর‑সংক্রান্ত অপরাধসহ আরও বহু ধরণের আর্থিক অপরাধের তদন্তের অধিকার পাবে। পুঁজিবাজারে সংবেদনশীল তথ্যের অপব্যবহার, শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণ বা বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা এখন দুদকের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হবে।

সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির বিধানও এই অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন ধারা অনুযায়ী দুদকের কমিটি এখন সর্বোচ্চ পাঁচজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত হবে, যার মধ্যে একজন নারী এবং আরেকজন তথ্য‑প্রযুক্তি (আইসিটি) ক্ষেত্রে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি থাকবে। এই পরিবর্তন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্য বহন করে।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের আইনি কাঠামো এখন মূল দুদক আইনের অধীনে সরাসরি পরিচালিত হবে, যা পূর্বের বিধি‑ভিত্তিক সীমাবদ্ধতাকে দূর করবে। ইউনিটটি এখন ঘুষ‑দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং, জালিয়াতি, প্রতারণা, চোরাচালান, কর‑সংক্রান্ত অপরাধ এবং পুঁজিবাজারের অবৈধ কার্যকলাপের তদন্তে পূর্ণ ক্ষমতা পাবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুদকের কার্যকরীতা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অধ্যাদেশের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২‑এর অধীনে অপরাধের তালিকায় নতুন আইটেম যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশি ও বিদেশি মুদ্রা পাচার, শুল্ক‑সংক্রান্ত লঙ্ঘন এবং পুঁজিবাজারের গোপন তথ্যের অপব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। এই পরিবর্তন দুদকের তদন্তের পরিধি বিস্তৃত করে আর্থিক অপরাধের বিস্তৃত স্পেকট্রামকে কভার করবে। ফলে দুদক এখন আর্থিক সিস্টেমের দুর্বলতা সনাক্ত করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারবে।

দুদকের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে নতুন তফসিলে মানিলন্ডারিং অপরাধের সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে। ঘুষ‑দুর্নীতি ছাড়াও দলিল‑দস্তাবেজ জালকরণ, প্রতারণা, জালিয়াতি, দেশি‑বিদেশি মুদ্রা পাচার, শুল্ক‑সংক্রান্ত অপরাধ এবং কর‑সংক্রান্ত অপরাধকে দুদকের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে গোপন তথ্যের অপব্যবহার, শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে সুবিধা গ্রহণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রেও দুদক এখন তদন্তের অধিকার পাবে।

এই আইন সংশোধনের মাধ্যমে দুদকের কাঠামোগত ও কার্যকরী দিক উভয়ই আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন সদস্যসংখ্যা ও দক্ষতা সংযোজনের ফলে কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততা ও বৈচিত্র্য আনবে। পাশাপাশি, এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের আইনি ভিত্তি শক্তিশালী হওয়ায় দুদক আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে পারবে।

দুদকের ক্ষমতা সম্প্রসারণের ফলে সরকারী ও বেসরকারি খাতে আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন। তবে, নতুন ক্ষমতা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং তদারকি কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

সারসংক্ষেপে, ২৩ ডিসেম্বর জারি হওয়া দুদক আইন সংশোধন অধ্যাদেশ দুদকের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে ক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং এনফোর্সমেন্ট ইউনিটকে আইনি কাঠামোর অধীনে আনার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন ও আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও শক্তিশালী করেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments