উক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক চেয়েছেন, যাতে যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলো আলোচনা করা যায়। রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু হওয়ার চার বছর পর, দুই দেশের আলোচনাকারীরা ২০ পয়েন্টের শান্তি পরিকল্পনার শেষ রূপের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন।
জেলেনস্কি মঙ্গলবারের একটি গোপনীয় ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন যে, ইউ.এস. ও উক্রেনের প্রতিনিধিরা যুদ্ধ শেষের দিকে কিছু মূল বিষয় নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, তবে দেশের পূর্বের শিল্পাঞ্চলের ভূখণ্ডীয় নিয়ন্ত্রণ এখনও অনির্ধারিত রয়ে গেছে।
তিনি জোর দিয়ে বললেন যে, “সংবেদনশীল বিষয়গুলো, বিশেষত ভূখণ্ড সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো, শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন” এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নেতার স্তরে বৈঠকের জন্য প্রস্তুত আছেন।
এই বিবৃতি ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার পর প্রকাশিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষ ২০ পয়েন্টের পরিকল্পনার বিভিন্ন ধারা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছে। একই সময়ে রাশিয়া নতুন খসড়া পর্যালোচনা করছে এবং তার প্রতিক্রিয়া গঠন করছে।
ক্রেমলিনের সূত্রে জানানো হয়েছে যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তার প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিভ সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করেছেন এবং মস্কো এখন রাশিয়ার অবস্থান নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা সংশোধনের জন্য চাপ দিচ্ছে, যা প্রথমে রাশিয়ার ইচ্ছা তালিকা হিসেবে সমালোচিত হয়েছিল। সেই পরিকল্পনায় উক্রেনকে অধিকাংশ ভূখণ্ড ছাড়তে, তার সেনাবাহিনীর ক্ষমতা সীমিত করতে এবং ন্যাটোতে যোগদানের অধিকার ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন যে, সর্বশেষ ২০ পয়েন্টের খসড়া পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। এতে উক্রেনের সামরিক শক্তি শান্তিকালীন সময়ে ৮ লক্ষের কাছাকাছি বজায় থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে অতিরিক্ত চুক্তি নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করবে।
তবে, ভূখণ্ড সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে এখনও পারস্পরিক সমঝোতা অর্জিত হয়নি, বিশেষ করে ডোনেটস্ক ও লুহান্স্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। জেলেনস্কি এটিকে “সবচেয়ে কঠিন বিষয়” বলে উল্লেখ করেছেন।
কিয়েভের প্রস্তাবনা হল বর্তমান যুদ্ধরেখা বজায় রেখে লড়াই থামিয়ে দেওয়া, যাতে উভয় পক্ষের সৈন্যরা যেখানে আছে সেখানেই অবস্থান করে। এই পদ্ধতি যুদ্ধের তীব্রতা কমিয়ে শান্তি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য রাখে।
অন্যদিকে, মস্কো পুরো উক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি করে, যা উভয় দেশের মধ্যে মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার এই অবস্থান উক্রেনের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে তীব্র করে তুলেছে।
শান্তি পরিকল্পনার এই পর্যায়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক পরিবর্তন করতে পারে। যদি শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা সফল হয়, তবে তা ইউ.এস.-উক্রেনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা, ন্যাটো সম্প্রসারণ, এবং রাশিয়ার ভবিষ্যৎ কৌশলগত পদক্ষেপে প্রভাব ফেলবে।
পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের সরকার কীভাবে এই সংবেদনশীল বিষয়গুলো সমাধান করবে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ঘনিষ্ঠ নজরদারির বিষয় হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি, ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থান, এবং রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া একসাথে এই শান্তি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত দিক নির্ধারণ করবে।



