লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)ের সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত গুলফেশা টাওয়ারের পার্টি অফিসে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পার্টি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে কোনো জোট গঠন করবে না।
ঘটনাস্থল গুলফেশা টাওয়ারের পার্টি অফিসে একাধিক এলডিপি নেতার সমাবেশে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিতির মধ্যে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল আলম তালুকদার, ড. নিয়ামুল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল এবং অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতা ছিলেন। তাদের সমর্থনে কর্নেল অলি পার্টির স্বতন্ত্র নির্বাচনী কৌশল উপস্থাপন করেন।
কর্ণেল অলি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এলডিপি স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে এবং কোনো রাজনৈতিক জোটের অংশ হবে না। তিনি বলেন, পার্টির স্বতন্ত্র নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এলডিপি তার নিজস্ব প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করবে এবং নির্বাচনী প্রচারণা নিজস্বভাবে পরিচালনা করবে।
সম্মেলনে উপস্থিত সিনিয়র নেতারা কর্নেল অলি’র সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, পার্টির স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ। নুরুল আলম তালুকদার, যিনি পূর্বে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তিনি পার্টির স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়বিচারকে জোর দিয়ে বলেন যে, এই পথই দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। ড. নিয়ামুল বশির ও ড. আওরঙ্গজেব বেলালও একই রকম মত প্রকাশ করে, পার্টির স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার জন্য সকল স্তরে সমন্বয় প্রয়োজন হবে বলে উল্লেখ করেন।
সেই দিন সকালে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দেন। রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭ আসন থেকে “ধানের শীষ” প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার এই পদক্ষেপ এলডিপি ও বিএনপির মধ্যে জোটের সম্ভাবনা দূর করে, দু’পক্ষের রাজনৈতিক গতিপথকে আলাদা করে দেয়।
রেদোয়ান আহমেদের যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে তিনি জানান যে, তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারণা স্বতন্ত্রভাবে চালাবেন এবং পার্টির সমর্থন ছাড়াই ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের উপর গুরুত্ব দেবেন। “ধানের শীষ” প্রতীকটি তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল থিম হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা কৃষক ও গ্রামীণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
এলডিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি দেখা যাবে। জোটবিহীন এই পদক্ষেপ পার্টির ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি অন্যান্য ছোট পার্টিগুলোর জন্যও স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে জোট না গড়ে তোলার ফলে দুই বড় পার্টির মধ্যে ভোটের ভাগাভাগি পুনর্গঠন হতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, এলডিপি যদি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রবেশ করে তবে তা ভোটারদের মধ্যে বিকল্পের চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। তবে পার্টির সংগঠন ও আর্থিক সক্ষমতা কীভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই দিক থেকে পার্টি নেতৃত্বের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শীঘ্রই শুরু হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এলডিপি এই প্রেক্ষাপটে তার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নাম প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করবে।
কর্ণেল অলি উল্লেখ করেন, পার্টি তার স্বতন্ত্র নীতি অনুসারে নির্বাচনী প্রোগ্রাম গঠন করবে এবং ভোটারদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য নীতি নির্ধারণে অগ্রাধিকার দেবে। তিনি বলেন, “আমরা দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বাস্তবিক পরিবর্তন আনার জন্য কাজ করব” এবং এই লক্ষ্যকে অর্জনের জন্য পার্টি সকল স্তরে সমন্বয় সাধন করবে।
এলডিপি নেতৃত্বের মতে, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পার্টি তার রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে পার্টি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশা পূরণে মনোযোগ দেবে।
বিএনপির সঙ্গে জোট না গড়ে তোলার সিদ্ধান্তের ফলে পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও সংগঠনকে পুনর্গঠন করতে হবে। পার্টির কর্মীদের মধ্যে নতুন দায়িত্ববণ্টন এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের জন্য অভ্যন্তরীণ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়। এই প্রক্রিয়ায় পার্টির মূল নীতি ও লক্ষ্যকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করা হবে।
অবশেষে, পার্টি নেতৃত্বের একমত যে, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক বহুমুখিতা বাড়াবে এবং ভোটারদের জন্য আরও বিকল্প প্রদান করবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এলডিপি তার প্রচারণা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের মাধ্যমে তাদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করবে।
সামগ্রিকভাবে, কর্নেল অলি ও তার দল যে স্বতন্ত্র নির্বাচনী পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন তা দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপ হবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দিক উন্মোচন করবে।



