ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর – চিফ অ্যাডভাইজারের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম আজ ফোরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছেন যে, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন তার পার্টি রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে। ফলে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দলটি প্রার্থী দাখিল করতে পারবে না।
প্রেস কনফারেন্সটি পরামর্শক পরিষদের বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হয়। শফিকুল আলমের বক্তব্যের সময় উপস্থিত সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা দলটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা এবং রেজিস্ট্রেশন বাতিলের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। কমিশন দলটির রেজিস্ট্রেশন বাতিলের নথি প্রকাশ করে, যা নির্বাচনী আইনের অধীনে নেওয়া হয়েছে। শফিকুল আলমের মতে, এই পদক্ষেপটি আইনি প্রক্রিয়ার ফল এবং সরকারের অবস্থানকে পরিবর্তন করে না।
শফিকুল আলমের উক্তি অনুযায়ী, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং তার পার্টি রেজিস্ট্রেশন বাতিল হওয়ায় দলটি এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এই নীতিতে অটল এবং কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
মিডিয়ার প্রশ্নে শফিকুল আলমকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্যদের থেকে প্রাপ্ত একটি চিঠি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি উত্তর দেন, “আমি নিজে চিঠিটি দেখিনি এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তবে আওয়ামী লীগের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের অবস্থান একই রকম রয়ে গেছে।” এই মন্তব্যে তিনি চিঠির বিষয়বস্তু বা প্রভাব সম্পর্কে কোনো বিশদ দেননি।
শফিকুল আলমের মতে, সরকার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপে অটল থাকবে। তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, “দলটির নিষেধাজ্ঞা এবং রেজিস্ট্রেশন বাতিলের ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই।” এই অবস্থান সরকারী নীতির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
একই সময়ে, নির্বাচনী সমঝোতা অনুযায়ী বিএনপি সাতটি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দাখিল করবে না। এই আসনগুলোতে জোটের অন্যান্য দলগুলোর নেতারা নিজেদের পার্টি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সমঝোতা দলগুলোর মধ্যে ভোট ভাগাভাগি এবং কৌশলগত সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
এই সমঝোতা এবং আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা উভয়ই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। দলগুলোর কৌশলগত পদক্ষেপ এবং ভোটারদের প্রতিক্রিয়া নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন কমিশন আগামী সপ্তাহে ভোটের তারিখ নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে। শফিকুল আলমের মন্তব্যের পর সরকারী সূত্রগুলোও নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে তথ্য শেয়ার করেছে।
সারসংক্ষেপে, শফিকুল আলমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ এখনো নির্বাচনী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং সরকার এই নীতিতে অটল থাকবে। একই সঙ্গে, বিএনপি ও জোটের অন্যান্য দলগুলো নির্বাচনের জন্য কৌশলগতভাবে প্রার্থী নির্বাচন করছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুন মাত্রা দেবে।



