28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহাইকোর্ট রায়: অবসরের তিন বছর আগে সরকারি কর্মচারী নির্বাচন করতে পারবেন না

হাইকোর্ট রায়: অবসরের তিন বছর আগে সরকারি কর্মচারী নির্বাচন করতে পারবেন না

ঢাকা হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, সরকারি কর্মচারী ও সামরিক কর্মকর্তাদের অবসরের তিন বছর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়ার বিধানকে বৈধ বলে রায় দেয়। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চের সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সীমা নির্ধারণ করে।

বেঞ্চের রায়ের ভিত্তি ছিল ডিসেম্বর ৪ তারিখে দাখিল করা চারটি পৃথক রিট পিটিশন, যেগুলোতে সরকারী কর্মচারীদের অবসরের আগে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিধানকে সংবিধানের মৌলিক নীতি লঙ্ঘনকারী হিসেবে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। হাইকোর্ট এই পিটিশনগুলোকে খারিজ করে, বিধানকে সংবিধানিকভাবে বৈধ বলে স্বীকার করে।

পিটিশন দায়েরকারী আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরেছিলেন যে ভোটদানের অধিকার সংবিধানের মৌলিক অধিকার এবং অবসরের পর তৎক্ষণাত নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া সমঅধিকার নীতি ও সংবিধানের ধারা ২৭-কে লঙ্ঘন করে। তারা দাবি করেন যে সরকারী কর্মচারীরা তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা সমতা ও ন্যায়বিচারের নীতির বিরোধী।

হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবসরের তিন বছর আগে নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা জাতীয় নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং সরকারি সেবার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। আদালত রায়ে বলেন যে, এই বিধানটি সংবিধানের কোনো স্পষ্ট বিধানকে বিরোধিতা করে না এবং তাই অবৈধ নয়।

বেঞ্চের রায়ের আগে, ২৯ নভেম্বর একই বিচারপতি দুজন পিটিশন ও রুলের শুনানি শেষ করেন এবং রায় যেকোনো সময় দেওয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করেন। এই তথ্য রায়ের সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেয়।

এই রায়ের ফলে দেশের আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে সরকারি কর্মচারী ও সামরিক কর্মকর্তাদের প্রার্থী হিসেবে নাম লেখাতে বাধা সৃষ্টি হবে। অবসরের তিন বছর আগে পর্যন্ত যারা পদে আছেন, তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়বে, যা প্রার্থীর তালিকায় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে যারা সরকারি সেবার অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে আসতে চেয়েছিলেন, তাদের জন্য এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে কাজ করবে।

বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো রায়কে সমালোচনা করে, কারণ এটি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ সীমিত করে। কিছু বিশ্লেষক রায়কে সরকারী কর্মচারীদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর সীমা আরোপের দিক থেকে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

হাইকোর্টের রায় চূড়ান্ত না হয়ে আপিলের সুযোগ রেখে দেওয়া হয়েছে; তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষ যদি রায়কে অপর্যাপ্ত মনে করে, তারা সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে। আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন রায়ের কার্যকরীতা বজায় থাকবে, ফলে নির্বাচনী সময়সূচি ও প্রার্থীর তালিকায় প্রভাব পড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, হাইকোর্টের এই রায় সরকারি কর্মচারী ও সামরিক কর্মকর্তাদের অবসরের তিন বছর আগে নির্বাচনে অংশগ্রহণের নিষেধাজ্ঞা সংবিধানিকভাবে বৈধ বলে নিশ্চিত করেছে। রায়ের প্রয়োগের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়মাবলী যুক্ত হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ভবিষ্যতে আপিলের সম্ভাবনা ও রায়ের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments