ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর—চিফ অ্যাডভাইজারের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম আজ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের কোনো পরিবর্তন বা পুনর্গঠন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এই মন্তব্যটি উপদেষ্টা পরিষদের সভার পর সরাসরি মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে দেওয়া হয়।
মিডিয়ার প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছিল সাম্প্রতিক সময়ে ঘুরে বেড়ানো গুজব, যেখানে উপদেষ্টা পরিষদের গৃহ উপদেষ্টা ও চিফ অ্যাডভাইজারের বিশেষ সহকারীর পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে অনুমান করা হচ্ছিল। বিশেষ করে গৃহ উপদেষ্টা পদে খালিলুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। শফিকুল আলম এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না এবং কোনো আলোচনা হয়নি বলে জোর দিয়ে বললেন।
উল্লেখযোগ্য যে, সরকারী সূত্রে পূর্বে জানানো হয়েছিল যে, সাতটি আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দায়ের করবে না এবং ঐ আসনগুলোতে শরিক দলের নেতারা নিজেদের দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে শফিকুল আলমের আজকের মন্তব্যের কোনো বিরোধ দেখা যায় না।
গৃহ উপদেষ্টা পদে পরিবর্তনের গুজবের পেছনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছিলেন যে, সরকারী কাঠামোতে কিছু সমন্বয় করা হতে পারে, যা বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার সূচক হতে পারে। তবে শফিকুল আলমের স্পষ্ট অস্বীকারের ফলে এই অনুমানগুলোকে তাত্ক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
প্রেস কনফারেন্সে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি এবং এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।” তিনি অতিরিক্তভাবে যোগ করেন যে, উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন না থাকলে বর্তমান নীতি ও পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে।
এই ঘোষণার পর, উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন যে, ভবিষ্যতে কোনো পুনর্গঠন বা পুনর্নিয়োগের সম্ভাবনা কীভাবে নির্ধারিত হবে। শফিকুল আলম উত্তর দেন যে, সরকারী সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন হলে তা যথাযথভাবে জানানো হবে এবং বর্তমান সময়ে কোনো অপ্রকাশিত পরিকল্পনা নেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, শফিকুল আলমের এই মন্তব্যের ফলে সরকারী স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত চাপ কমে যাবে। বিশেষ করে, গৃহ উপদেষ্টা পদে পরিবর্তনের গুজবের ফলে উত্থাপিত উত্তেজনা এখন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, শফিকুল আলমের মন্তব্যের পরেও কিছু মিডিয়া হাউস এখনও গৃহ উপদেষ্টা পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখযোগ্য যে, শফিকুল আলমের এই বক্তব্যের সঙ্গে সরকারী দপ্তরের পূর্বের বিবৃতি সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে বলা হয়েছে যে, উপদেষ্টা পরিষদের কাঠামোতে কোনো হঠাৎ পরিবর্তন না করে বর্তমান নীতি অনুসরণ করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রমে কোনো বড় পরিবর্তন না হলে, সরকারী নীতি ও পরিকল্পনা স্থিতিশীল থাকবে বলে অনুমান করছেন। বিশেষ করে, আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে এই স্থিতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শফিকুল আলমের মন্তব্যের পর, সরকারী দপ্তর থেকে কোনো অতিরিক্ত বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, গৃহ উপদেষ্টা বা অন্য কোনো উপদেষ্টা পদে পরিবর্তনের কোনো আলোচনা এখনো হয়নি এবং ভবিষ্যতে যদি কোনো পরিবর্তন হয় তবে তা জনসাধারণের কাছে জানানো হবে।
সারসংক্ষেপে, শফিকুল আলমের আজকের বক্তব্য স্পষ্টভাবে গৃহ উপদেষ্টা পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন ও উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠন সংক্রান্ত গুজবকে খারিজ করেছে। এই অস্বীকারের ফলে সরকারী কাঠামোর স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং রাজনৈতিক পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা কমে যাবে।



