ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে বিএনপি সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ের সচিব রুমিন ফারহানা আজ দুপুরে নামিনেশন পত্র গ্রহণ করেন। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী কৌশল ও জোটের চুক্তির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা দেখছেন।
প্রায় ১ঃ৩০ টায় রুমিনের পক্ষ থেকে নামিনেশন পত্র সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়। পত্রগুলো সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সারাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) মো. আবু বকর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অফিস থেকে নেওয়া হয়।
UNO মো. আবু বকর সরকার জানান, পত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং সকল প্রয়োজনীয় নথি যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সারাইল উপজেলার যুব দল (যুব দাল) সংগঠন সচিব আলি হোসেনও পত্র গ্রহণে অংশ নেন। তিনি উল্লেখ করেন, রুমিনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা তিনি নিজেই নির্ধারণ করবেন।
এই সময়ে সারাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলার বর্তমান ও প্রাক্তন বিএনপি নেতা, যুব দাল ও ছাত্র দালের সক্রিয় সদস্যসহ কয়েকশো জন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতির সংখ্যা রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসের ইঙ্গিত দেয়।
সন্ধ্যা ৩ঃ৪৫ টার দিকে জানা যায়, একই নির্বাচনী এলাকায় মোট আটজন প্রার্থীর নামিনেশন পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে রুমিনের নামিনেশন পত্রও অন্তর্ভুক্ত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি সারাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা, পাশাপাশি বিজয়নগর উপজেলার বুধান্তি ও চাঁদুরা ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে আসছে।
বিএনপি বহু বছর ধরে এই আসনের জন্য নিজস্ব প্রার্থী চেয়েছে, তবে জোটের চুক্তি অনুসারে দলটি এই আসনটি জোটের অংশীদার জামায়াত-ই-উলামা-ই-ইসলাম বাংলাদেশকে দান করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, জোটের সাতটি আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দায়ের করবে না; পরিবর্তে জোটের অংশীদার দলগুলো তাদের নিজস্ব প্রতীক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই নীতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-এও প্রযোজ্য।
এই জোটের অংশ হিসেবে, বিএনপি উপ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব জামায়াত-ই-উলামা-ই-ইসলাম বাংলাদেশ থেকে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মাওলানা জুনায়েদের প্রার্থীতা জোটের সমন্বিত প্রচারণা ও ভোটার সমর্থনকে একত্রিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
রুমিনের স্বাধীন প্রার্থী ঘোষণা জোটের অভ্যন্তরে নতুন গতিশীলতা তৈরি করতে পারে। যদিও তিনি জোটের প্রার্থী নয়, তবে তার উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে বিকল্পের চাহিদা প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে ভোট সংগ্রহ করবেন এবং জোটের সমন্বিত কৌশলে কী প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
সারসংক্ষেপে, রুমিন ফারহানা আজ নামিনেশন পত্র সংগ্রহের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে জোটের অংশীদার মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের প্রার্থীতা নিশ্চিত হয়েছে, যা আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে জটিল করে তুলবে। নির্বাচনের অগ্রগতি ও জোটের সমন্বয় কিভাবে গড়ে উঠবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



