ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে গনতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ছায়ানাট এবং উদিচি সহ বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ ঘটেছে; এই আক্রমণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অকার্যকর উপস্থিতি সরকারকে আক্রমণকারীদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রতিবাদে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মজীবী এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন একত্রিত হয়, যারা আক্রমণকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বতন্ত্রতা ও স্বাধীনতা রক্ষার দাবি জানায়। উপস্থিতির সংখ্যা সুনির্দিষ্ট না হলেও, ভিড়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়।
অধ্যাপক মুহাম্মদ বলেন, এই হামলাগুলো হঠাৎ বা উন্মাদ ভিড়ের কাজ নয়; বরং পূর্ব পরিকল্পনা ও লক্ষ্যভিত্তিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নথি, বাদ্যযন্ত্র, কম্পিউটার এবং অন্যান্য সম্পদ ধ্বংস ও লুটের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার ভবনে আক্রমণের সময় অগ্নিকাণ্ডে ২০ থেকে ২৫ জন সাংবাদিক ভিতরে আটকে গিয়ে ধোঁয়া ও আগুনের কারণে প্রাণহানির মুখে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা বাড়লে তাদের বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ত, এ বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
এই পরিস্থিতিতে এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি এবং নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবিরও ঝুঁকি নিয়ে সাহায্য করতে গিয়ে আক্রমণের শিকার হন। তিনি সর্বদা স্বৈরাচার, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরোধিতা করেছেন, তবু তাকে আওয়ামী লীগের মিত্র বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ছায়ানাটের ওপর আক্রমণকে তিনি শুধুমাত্র একটি সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানের আক্রমণ হিসেবে নয়, বরং জাতীয় ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। জনসাধারণের তহবিল দিয়ে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটি সঙ্গীত শিক্ষা, শিশু বিদ্যালয় এবং গ্রন্থাগারসহ বহু কার্যক্রম পরিচালনা করত; সবকিছুই ধ্বংসের মুখে পড়ে।
পরের দিন উদিচি শিল্পী গোষ্ঠীর ওপরও একই রকম আক্রমণ হয়, যেখানে ঐতিহাসিক নথি ও বাদ্যযন্ত্রের সংগ্রহ লুণ্ঠিত হয়। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে আক্রমণকারীরা নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া সংস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে কাজ করছে।
আক্রমণগুলোর সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও তারা হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা সরকারের পক্ষপাতের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এই অকার্যকরতা নিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ সরকারকে আক্রমণকারীদের সহায়তা করা হিসেবে সমালোচনা করেন।
প্রতিবাদে সরকারী পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি; তবে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিরাপত্তা বাড়াতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা করতে পারে।
এই ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে স্বাধীন মিডিয়া ও সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে। সরকার যদি দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে তদন্ত চালায়, তবে বিরোধের তীব্রতা কমে যেতে পারে; অন্যথায় বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে।
অধিকারের কমিটির এই প্রতিবাদ এবং অধ্যাপক মুহাম্মদের মন্তব্য দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি জনসাধারণের উদ্বেগকে তুলে ধরছে, যা ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার দিকে নিয়ে যেতে পারে।



