বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমানের লন্ডন থেকে ঢাকা ফেরার বিমান বুধবার সন্ধ্যা ৬:১৫ টায় বাংলাদেশ সময় ছেড়ে, পরদিন দুপুরের দিকে গন্তব্যে পৌঁছাবে। এ উড্ডয়নটি তার রাজনৈতিক সফরের সূচনা হিসেবে গণ্য, যেখানে তিনি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তরিককে বিএনপি নীতিনির্ধারকরা স্বাগত জানাবে এবং তার পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে পুরবাচালের ৩০০ ফুটে একটি বৃহৎ রিসেপশন নির্ধারিত। রাস্তায় দু’পাশে পার্টির কর্মী ও সমর্থকরা সারিবদ্ধ হয়ে তার আগমনকে স্বাগত জানাবে বলে জানানো হয়েছে।
রিসেপশনে তরিকের ভাষণ শোনার সুযোগ থাকবে, যেখানে তিনি পার্টির বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এই অনুষ্ঠানের পর তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বশুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালের বেডসাইডে দেখবেন।
মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তরিক গুলশানের ফেরোজা এলাকায় গিয়ে কিছু ব্যক্তিগত কাজ সম্পন্ন করবেন। এরপর ২৬ ডিসেম্বর তার পিতার সমাধিতে ভিজিটের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
সম্ভাব্য সমাধি সফরের পর তরিকের লক্ষ্য হবে বগুড়া শহরে গিয়ে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তার প্রার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করা। তিনি বগুড়া-৬ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।
বিএনপি এই সফরের জন্য ঢাকায় প্রায় পাঁচ মিলিয়ন সমর্থক ও কর্মীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ২৪ ডিসেম্বর দুপুর পর্যন্ত ট্রাফিক পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা বা বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি, ফলে চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
হাজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টিকিটধারী যাত্রীদের জন্য প্রবেশ সীমাবদ্ধ করা হবে, যাতে বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় না হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে তরিকের সফরের সমর্থনে দশটি বিশেষ ট্রেন চালু করবে, যা সমর্থকদের রাজধানীতে নিয়ে যাবে এবং প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা আয় করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অতিরিক্তভাবে, তরিকের দলের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে যে, সাতটি আসনে বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দায়ের করবে না; ঐ আসনে জোটের অন্যান্য দলের নেতারা তাদের নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই ব্যবস্থা জোটের সমন্বয় ও ভোটাভাটির কৌশলগত দিককে শক্তিশালী করবে।



