বিএনপি আজ গুলশানের চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক অফিসে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে ১০টি আসনের জন্য জোটের সঙ্গে সিট‑শেয়ারিং চূড়ান্ত করেছে। এই পদক্ষেপটি সমসাময়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে, বর্তমান শাসনের বিরোধী একতাবদ্ধ কৌশলকে দৃঢ় করতে নেওয়া হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে দলীয় সচিব সাধারণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান ঘোষণা দেন, যেখানে তিনি বলেন যে আলোচনার মাধ্যমে জোটের পার্টিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন জোটের সিনিয়র নেতারা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী, বিএনপি সাতটি আসনে নিজস্ব প্রার্থী দায়ের করবে না; বাকি তিনটি আসনে জোটের প্রার্থীরা হয় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে, অথবা বিএনপির পাটের গাঁথা প্রতীক ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই ব্যবস্থা জোটের পার্টিগুলোর স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে, একতাবদ্ধ ভোটার ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (কোলোনেল ওলি) এর সেক্রেটারি জেনারেল রেডওয়ান আহমেদ, পার্টির পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি কুমিল্লা-৭ আসনে বিএনপির পাটের গাঁথা প্রতীক ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানানো হয়েছে।
ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) এর চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজও একইভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে, ঢাকা-১৩ আসনে পাটের গাঁথা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। উভয় প্রার্থীই জোটের সমন্বিত কৌশলের অংশ হিসেবে নির্বাচনী প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছেন।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এর ফরিদুজ্জামান ফরিদ, নারাইল-২ আসনে বিএনপির পাটের গাঁথা প্রতীক ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তার পার্টি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত না থাকায় কোনো আইনি বাধা নেই, তাই তিনি স্বাধীনভাবে এই প্রতীক ব্যবহার করতে পারছেন।
পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টি (কাজি জাফর) এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার তার নিজস্ব পার্টির প্রতীক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই ক্ষেত্রে বিএনপি কোনো প্রার্থী দায়ের করবে না, ফলে জোটের পার্টি একা এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে গনো অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান তার পার্টির প্রতীক ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এখানে আবারও বিএনপি কোনো প্রার্থী দায়ের না করে, জোটের পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেবে।
ঢাকা-১২ আসনে রেভোলিউশনারি ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক তার পার্টির প্রতীক দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পূর্বে বিএনপি সাইফুল আলম নীরাবকে এই আসনের জন্য মনোনীত করেছিল, তবে এখন জোটের নতুন সমন্বয় অনুযায়ী পার্টির প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এই সিট‑শেয়ারিং চুক্তি জোটের পার্টিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে, শাসন বিরোধী ভোটার গোষ্ঠীর একতাবদ্ধতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একদিকে জোটের পার্টিগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রেখে, অন্যদিকে সমগ্র জোটের ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী হবে।
বিএনপির এই পদক্ষেপের পর জোটের অন্যান্য পার্টি দ্রুত তাদের প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বে শেষ মুহূর্তের সমন্বয় এবং প্রচারাভিযান কৌশল নির্ধারণের জন্য এই সিট‑শেয়ারিং চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।



