যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক উৎপাদন বার্ষিক ভিত্তিতে ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংখ্যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের ৩.২ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি এবং দুই বছর পর সর্বোচ্চ জিডিপি বৃদ্ধির সূচক হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
ডেটা মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে মুদ্রাস্ফীতির গতি ত্বরান্বিত হয়েছে বলে প্রকাশ পেয়েছে। গৃহস্থালী ক্রয়ের মূল্যসূচক ত্রৈমাসিকের তুলনায় ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে, যা পূর্ব ত্রৈমাসিকের ২.০ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। এই মুদ্রাস্ফীতি সূচক বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি, যা ভবিষ্যৎ মুদ্রা নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ফলাফলকে তার অর্থনৈতিক নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং ট্যারিফ নীতি ও মুদ্রাস্ফীতি না থাকা অবস্থাকে “ট্রাম্প অর্থনৈতিক স্বর্ণযুগ”ের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ডেটা দেখায় যে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি, যা ট্রাম্পের মন্তব্যের সঙ্গে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের তথ্য কর্মসংস্থান সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। ফেডারেল রিজার্ভ শেষ তিনটি বৈঠকে সুদের হার কমিয়েছে, কারণ কর্মসংস্থান পরিস্থিতি তার প্রধান উদ্বেগের বিষয়। যদিও মুদ্রাস্ফীতি দুই শতাংশের উপরে স্থায়ী রয়েছে, তবে কর্মসংস্থান সংকটের কারণে নীতি নির্ধারকরা সতর্কতা বজায় রেখেছেন।
নেভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হেথার লং উল্লেখ করেছেন যে, এই জিডিপি বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের স্থিতিস্থাপকতা নির্দেশ করে এবং ২০২৬ সালের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। তিনি বলেন, যদি ব্যাপক বেকারত্ব না ঘটে, তবে অধিকাংশ আমেরিকান গ্রাহক তাদের ব্যয় চালিয়ে যাবে।
আরও একটি বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, আর.এস.এম. ইউ.এস.-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ জো ব্রুসুয়েলাস জিডিপি ডেটা থেকে বুঝতে পারছেন যে, যদিও সামগ্রিক বৃদ্ধির হার শক্তিশালী, তবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এখনও দুর্বলতা রয়েছে। তিনি ভবিষ্যতে এই দ্বৈত গতিবিধি—বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান—ই ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক বর্ণনাকে প্রভাবিত করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন।
বাজার বিশেষজ্ঞরা এই তথ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সংকেত হিসেবে দেখছেন, তবে মুদ্রাস্ফীতি ও শ্রমবাজারের দ্বন্দ্বের কারণে নীতি গঠনে জটিলতা বাড়বে বলে সতর্ক করছেন। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতি, ট্যারিফের প্রভাব এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের গতিপথ এই দ্বন্দ্বকে সমাধান করার মূল চাবিকাঠি হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তৃতীয় ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুনভাবে গঠন করছে। ভোক্তাদের চাহিদা শক্তিশালী থাকলেও, কর্মসংস্থান ও মূল্য স্থিতিশীলতা নীতি নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ নীতি গঠনের দিকনির্দেশনা এই দ্বৈত সূচকের পারস্পরিক প্রভাবের উপর নির্ভর করবে।



