বগুড়া জেলার বিএনপি নেতারা আজ জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর নামপত্র সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করেছেন। জেলায় কার্যনির্বাহী রেজাউল করিম বাদশা তরিক রহমানের জন্য বগুড়া-৬ (সাদার) এবং খালেদা জিয়ার জন্য বগুড়া-৭ (গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা) নির্বাচনী এলাকার নামপত্র গ্রহণ করেন, যা আসন্ন পার্লামেন্টারী নির্বাচনে উভয় প্রার্থীর অংশগ্রহণের সূচনা নির্দেশ করে।
তরিকের নামপত্রটি দুপুর ১২ঃ৩০ টার দিকে ডেপুটি কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার তৌফিকুর রহমানের অফিস থেকে সংগ্রহ করা হয়। বাদশা, যিনি বগুড়া জেলা ইউনিটের সভাপতি, সরাসরি ডেপুটি কমিশনারের ডেস্কে গিয়ে প্রয়োজনীয় ফর্ম গ্রহণ করেন এবং তা নিরাপদে সংরক্ষণ করেন।
খালেদা জিয়ার নামপত্র সংগ্রহের সময়টি দুপুর ২ঃ০০ টায় নির্ধারিত হয়। জেলায় সিনিয়র ইলেকশন অফিসার মো. ফজলুল করিমের তত্ত্বাবধানে হেলালুজ্জামান তালুকদার, যিনি খালেদার উপদেষ্টা এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য, অন্যান্য উচ্চপদস্থ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ফর্মটি গ্রহণ করেন।
নামপত্র গ্রহণের পর রেজাউল করিম বাদশা প্রকাশ্যে জানান, “তরিক রহমান বগুড়া সদর থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি এই আসনটি বেছে নেওয়ায় আমাদের গর্বের বিষয়।” তার এই মন্তব্য থেকে দেখা যায়, তরিকের বগুড়া-৬ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলীয় কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হেলালুজ্জামান তালুকদারও একই সময়ে উল্লেখ করেন, “খালেদা জিয়ার নামপত্রটি পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের পরামর্শের পরে যথাসময়ে জমা দেওয়া হবে।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, খালেদার প্রার্থীতা নিয়ে পার্টির মধ্যে সমন্বয় প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
পুলিশের একটি বিবৃতি অনুসারে, যদি তরিক রহমান দেশের কোনো অংশে অবস্থান করেন তবে তার গ্রেপ্তার করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এই তথ্যটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে উন্মোচিত করে এবং পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপির এই পদক্ষেপগুলো বগুড়া জেলায় পার্টির ঐতিহাসিক শক্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। তরিকের বগুড়া-৬ এবং খালেদার বগুড়া-৭ প্রার্থীতা উভয়ই জেলায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য বহন করে।
অবশ্যই, বিরোধী আওয়ামী লীগও এই গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যিনি বহু মেয়াদে দেশের শীর্ষে অধিষ্ঠিত, তার নেতৃত্বে থাকা দল এই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে বলে আশা করা যায়।
নামপত্রের চূড়ান্ত জমা দেওয়ার শেষ তারিখের দিকে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয় প্রার্থীর প্রচারাভিযান গতি পাবে। নির্বাচনী কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব ফর্ম জমা হলে, বগুড়া জেলায় ভোটারদের কাছে পার্টির বার্তা পৌঁছানোর জন্য রোড শো, সভা ও অন্যান্য প্রচারমূলক কার্যক্রম শুরু হবে।
এই পর্যায়ে, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মনোভাব, পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোই আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



