বগুড়া জেলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ২১ ডিসেম্বর, রবিবার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসে উভয় প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতারা যথাক্রমে পত্র সংগ্রহ করেন। এই পদক্ষেপটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। তিনি দুপুর দুইটায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার ডেস্কে গিয়ে পত্রটি হাতে নেন। লালু তার দায়িত্ব সম্পন্ন করার পর সঙ্গে সঙ্গে দলীয় অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষে পত্র গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় সদস্য জয়নাল আবেদীন চাঁন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম হেলাল এবং খাদেমুল ইসলাম খাদেম। এদের পাশাপাশি আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ নেতা সমাবেশে অংশ নেন, যা দলের ঐক্য ও সমন্বয়কে প্রকাশ করে।
বগুড়া-৬ (সদর উপজেলা) আসনে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তিনি দুপুর সাড়ে বারোটা টায় জেলা প্রশাসকের অফিসে গিয়ে তৌফিকুর রহমানের কাছ থেকে পত্রটি গ্রহণ করেন। বাদশা পত্র হাতে নেয়ার পর দলীয় উচ্চপদস্থ সদস্যদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরামর্শ করেন।
তারেক রহমানের পক্ষে পত্র গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চাঁন, সাবেক সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ এবং জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। এই সমাবেশে দলীয় শীর্ষ নেতারা একত্রিত হয়ে প্রার্থীর সমর্থন প্রকাশ করেন।
জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র গ্রহণের পর একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বগুড়া থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের তার ইচ্ছা দলের জন্য আনন্দের বিষয়। এই মন্তব্যের মাধ্যমে দলীয় নেতৃত্ব তারেকের রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি প্রকাশ করে।
বগুড়া দুইটি আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের ফলে নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হয়েছে। খালেদা জিয়া, যিনি পূর্বে প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপার্সন, তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা যায়। তারেক রহমান একটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। উভয় প্রার্থীর উপস্থিতি ও দলীয় সমর্থন নির্বাচনের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
পরবর্তী সময়ে দলীয় কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটার সংযোগ এবং ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ ত্বরান্বিত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বগুড়া জেলায় ভোটারদের মধ্যে এই দুই প্রার্থীর প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে, বিশেষত তাদের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক কার্যক্রমের আলোকে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গঠিত হবে তা নির্ভর করবে পার্টির সংগঠনগত শক্তি, স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং ভোটারদের প্রত্যাশার উপর।



