কুমিল্লা জেলায় ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা কারাগারের সামনে থেকে খাদিজা ইয়াসমিন বিথি, যাকে যুবদল নেতা আরিফ সিকদার হত্যার মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হয়, গ্রেফতার করা হয়। তার ওপর হাতিরঝিল থানায় করা মামলায় রিম্যান্ডের আবেদন দাখিল করা হয়।
বিথি আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজের নির্দোষতা দাবি করেন এবং বলেন, তার বাবা সুব্রত বাইনের অপরাধের সম্ভাবনা থাকতে পারে, তবে তিনি যে ঘটনার জন্য গ্রেফতার হয়েছেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না। তিনি জিজ্ঞেস করেন কেন তাকে গ্রেফতার করে রিম্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত বিথি জানিয়েছেন, তার গ্রেপ্তারীর ফলে তার ছোট মেয়ে প্রতিবেশীদের দেখভাল করতে বাধ্য হয়েছে। তার সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আদালতে আবেদন করেন যে রিম্যান্ডের সময়সীমা হ্রাস করা হোক।
ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মাজহারুল ইসলাম, যিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গ্রেফতার পরপরই বিথির জন্য সাত দিনের রিম্যান্ডের আবেদন করেন। তবে মামলার মূল নথি অনুপস্থিত থাকায় আদালত তাকে আবার কারাগারে পাঠায় এবং রিম্যান্ডের শোনানির তারিখ ১৯ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে।
১৯ ডিসেম্বরের শোনানিতে বিথির পাঁচ দিনের রিম্যান্ড মঞ্জুর হয়। পাঁচ দিন শেষ হওয়ার পর পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে, মাজহারুল ইসলাম একই সময়ের জন্য আরেকটি রিম্যান্ডের আবেদন করেন। আদালত শেষ পর্যন্ত চার দিনের রিম্যান্ড অনুমোদন করে।
রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিম্যান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আগামীকাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসছেন এবং দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, বিথি তার বাবার সঙ্গে সংযুক্ত, যাকে “শীর্ষ সন্ত্রাসী” বলা হয়, এবং মামলায় তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
বিথির পক্ষে অ্যাডভোকেট লুৎফা বেগম পারুল রিম্যান্ড বাতিলের জন্য জামিনের আবেদন করেন। তিনি বলেন, রিম্যান্ডের সময়কালে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি এবং পুনরায় রিম্যান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এছাড়া, বিথির ছোট সন্তান রয়েছে, যা রিম্যান্ডের প্রয়োগকে অনুচিত করে তুলেছে।
আদালত পারুলের আবেদন শোনার পর বিথিকে কথা বলার অনুমতি দেয়। বিথি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, তিনি মামলার কোনো তথ্য জানেন না এবং তার সন্তান ও বাবা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। তিনি রিম্যান্ডের পরিবর্তে জামিনের আবেদন করেন।
প্রসিকিউটরের রিম্যান্ডের আবেদন এবং প্রতিরক্ষার জামিনের আবেদন উভয়ই আদালতে বিবেচনা করা হবে। বিচারক রিম্যান্ডের প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং অভিযুক্তের পারিবারিক অবস্থা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিথি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা তার অনুপস্থিতিতে কষ্ট পেয়েছে। প্রতিবেশীরা তার সন্তানকে সাময়িকভাবে দেখাশোনা করছে, তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মামলাটি আরিফ সিকদার হত্যার সঙ্গে যুক্ত, যিনি যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুর পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে বিথি অন্তর্ভুক্ত।
আসন্ন রাষ্ট্রীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক নেতাদের দেশে আগমনের প্রেক্ষাপটে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে। আদালত রিম্যান্ডের সময়সীমা বাড়ানো বা জামিন প্রদান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে, যা ভবিষ্যৎ তদন্তের গতি ও অভিযুক্তের অধিকারকে প্রভাবিত করবে।



