উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালবেলায় কাস্টমস কর্মীরা দুই যুবকের তাড়া করার পর ২ টাকার ৬০ হাজার নতুন বাংলাদেশি নোট জব্দ করেছে। মোট মূল্য প্রায় এক লাখ বিশ হাজার বাংলাদেশি টাকা। নোটগুলো সম্পূর্ণ নতুন এবং পূর্বে কখনো ব্যবহার করা হয়নি।
কাস্টমস বিভাগের একটি দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হেমতাবাদ থানা অধীনে থাকা ঠাকুরবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানকালে, নম্বর প্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে দুই যুবককে চলতে দেখেন। সিগন্যাল দিলে প্রথমে থামার ভান করা যুবকরা হঠাৎ দ্রুত গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যায়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা গাড়ি ব্যবহার করে তাড়া চালিয়ে যায়। পথে সন্দেহভাজনরা রাস্তার ওপর বাংলাদেশি মুদ্রার নোট ছুঁড়ে ফেলে পালানোর চেষ্টা করে। নোটগুলো ছড়িয়ে পড়ার পরও, দ্রুত অনুসন্ধান ও সংগ্রহের মাধ্যমে মোট ৬০ হাজারটি নোট উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধারকৃত নোটগুলো সম্পূর্ণ নতুন, কোনো চিহ্ন বা ব্যবহারিক চিহ্ন দেখা যায়নি। তাই, এই নোটগুলো কীভাবে ভারতে পৌঁছেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নোটের উৎপাদন ও বিতরণ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে তদন্তের দিকনির্দেশনা এখনও অনিশ্চিত।
রায়গঞ্জ কাস্টমস বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট অনুজ কুমার দাস জানান, পালিয়ে যাওয়া দুই যুবকের মধ্যে একজন সিভিক ভলান্টিয়ারের ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাড়া ও জব্দের সময় কোনো সহিংসতা বা সম্পত্তি ক্ষতি ঘটেনি। বর্তমানে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
কাস্টমসের এই পদক্ষেপটি দেশের মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। মুদ্রা জব্দের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী অপরাধীকে গ্রেফতার করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া, জব্দকৃত নোটগুলোকে যথাযথভাবে নষ্ট করা বা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
এই ঘটনা দেশের সীমান্তে মুদ্রা পাচার সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষত, বাংলাদেশি ২ টাকার নোটের বিশাল পরিমাণে প্রবেশের পেছনে কোনো সংগঠিত নেটওয়ার্কের জড়িততা থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তাই, কাস্টমস ও পুলিশ সংস্থা একসাথে সমন্বয় করে আরও তদন্ত চালিয়ে যাবে।
সামগ্রিকভাবে, রায়গঞ্জে এই জব্দের মাধ্যমে সীমান্তে মুদ্রা পাচার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য প্রকাশিত হলে, তা জনসাধারণের জানার জন্য প্রকাশ করা হবে।



