20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআইসিটি চিফ প্রসিকিউটর: অভিযুক্তরা সেনা পরিচয় ব্যবহার করে মামলাকে সেন্সেটাইজ করার চেষ্টা

আইসিটি চিফ প্রসিকিউটর: অভিযুক্তরা সেনা পরিচয় ব্যবহার করে মামলাকে সেন্সেটাইজ করার চেষ্টা

২৪ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন যে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্তরা নিজেদেরকে সেনা কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করে মামলাটিকে অন্য খাতে সরিয়ে নিতে চাচ্ছেন। তিনি এ কথা বলেন আদালতে চলমান শুনানির পর, যেখানে প্রসিকিউশন ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র কথাবার্তা লিপিবদ্ধ হয়।

প্রসিকিউটর স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাইব্যুনালে কোনোভাবে সেনাবাহিনীর বিচার হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে হাজারো মানুষ গুম হয়েছে এবং শত শত লাশ নদী, খাল, বিল ও সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এসব অপরাধের সময় অভিযুক্তরা পুলিশ বা র‌্যাব (র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, সেনা কমান্ডের অধীনে বা সেনাবাহিনীর ইউনিফর্মে ছিলেন না।

তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত পক্ষ কৌশলে তাদের পূর্বের পুলিশ বা র‌্যাব পরিচয় ভুলে দিয়ে বারবার সেনা অফিসার পরিচয় তুলে ধরছে। তিনি বলেন, এই পরিচয়কে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করে তারা মামলাটিকে সেন্সেটাইজ করার চেষ্টা করছে, যা আদালতের মূল ফোকাসকে বিচ্যুত করতে চায়।

অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা এই কৌশলকে অবৈধ উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন, এ কথায় প্রসিকিউটর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু আইনজীবী নিজেদেরকে সিনিয়র দাবি করে আদালতের সম্মান চেয়েছেন, যদিও রেকর্ডে দেখা যায় তারা ২০২৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ ধরনের মিথ্যা দাবি আদালতের শিষ্টাচারকে ক্ষুণ্ন করে।

আইনি ভিত্তি হিসেবে তিনি বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার‑১৯৭২ এর আর্টিকেল ২৬ উল্লেখ করেন, যার মতে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদা ভোগ করেন। এই বিধান অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেল যখন আদালতে বক্তব্য রাখবেন, তখন অন্য কোনো আইনজীবী দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারবেন না।

প্রসিকিউটর সতর্ক করেন, এইসব কৌশল মূলত গুমের বিচারের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, হাইপ তৈরি করে জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং মামলাটিকে রাজনৈতিক আলোচনায় রূপান্তরিত করা উভয়ই অনুচিত।

শুনানিকালে আদালতে উত্তেজনা বেড়েছে; প্রসিকিউশন ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় দেখা গিয়েছে। তাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, এই ধরনের উত্তেজনা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে, তাই সকল পক্ষকে শিষ্টাচার বজায় রাখতে হবে।

পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে প্রমাণ-প্রসঙ্গের বিশদ বিশ্লেষণ এবং সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ চালিয়ে যাবে। প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেছেন, ট্রাইব্যুনাল গুম ও নিষ্পত্তি না হওয়া হত্যাকাণ্ডের সত্য উদ্ঘাটনে অটল থাকবে এবং কোনো বাহ্যিক চাপের ফলে বিচার প্রক্রিয়া বদলাবে না।

প্রসিকিউটর তাছাড়া আদালতে উপস্থিত সকল আইনজীবীকে অনুরোধ করেছেন যে, তারা নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে মামলাকে বিকৃত না করতে হবে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

এই মামলাটি দেশের মানবাধিকার রেকর্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে এবং গুমের শিকারদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার আনার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধের প্রতিরোধে মডেল হিসেবে কাজ করবে, এ কথা তাজুল ইসলাম শেষ করে জানান।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments