বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তরিক রহমানের ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বরিশালে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটি রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকালে বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। তরিকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে পরিকল্পনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়।
সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তদুপরি, বরিশাল বিভাগের বিএনপি ও তার অঙ্গ-সঙ্গী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত নেতারা স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।
বৈঠকের মূল বিষয় ছিল তরিকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অনুষ্ঠানের সময়সূচি নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়। তদুপরি, জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াতে কীভাবে কার্যকরী ক্যাম্পেইন চালানো যায় তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন, স্থানীয় পুলিশ এবং নিরাপত্তা দপ্তরের সমন্বয় কীভাবে নিশ্চিত করা হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়।
সভায় উল্লেখ করা হয় যে, বরিশাল বিভাগ থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক নেতাকর্মী ঢাকার অনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই সংখ্যা পূর্বের কোনো সমাবেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা তরিকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক গুরুত্বকে নির্দেশ করে। উপস্থিত নেতারা এই বিশাল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর জন্য লজিস্টিক, বাসস্থান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে প্রতিশ্রুতি দেন।
বিএনপির সংগঠনগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, শিরীন সভাপতি উল্লেখ করেন যে, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে সকল স্তরে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপ বাড়ানো হবে, যাতে সমাবেশের সময় শৃঙ্খলা বজায় থাকে। এছাড়া, সামাজিক মিডিয়া ও স্থানীয় মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্যপ্রচারণা বাড়িয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সরকারী পক্ষের কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, বৃহৎ সংখ্যক সমাবেশের সময় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে এবং তা সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। তবে, তরিকের সমর্থকরা এই সমাবেশকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে তুলে ধরছেন।
এই প্রস্তুতিমূলক সভা তরিকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগে শেষ বড় সমন্বয় সভা হিসেবে কাজ করবে। তরিকের ফিরে আসা শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত যাত্রা নয়, বরং বিএনপির সংগঠনগত পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সমাবেশের সময়সূচি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং জনসম্পৃক্ততার কৌশলগুলো এখনো চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি পাঁচ লক্ষাধিক নেতাকর্মী সত্যিই ঢাকায় অংশ নেয়, তবে তা বিএনপির ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে এমন বৃহৎ সমাবেশ পার্টির সংগঠনকে দৃঢ় করে তুলতে পারে। তরিকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বৃহৎ সমাবেশ পার্টির প্রভাব বাড়াতে এবং মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অধিকন্তু, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, তরিকের নেতৃত্বে একটি সিরিজের রাজনৈতিক র্যালি এবং জনসভার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব র্যালি দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় নেতারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন। এই র্যালিগুলোকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে পার্টির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক স্তরের সমন্বয় প্রয়োজন হবে।
শেষে, তরিকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং বরিশাল থেকে বিশাল সংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণের প্রস্তুতি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে বলে অনুমান করা যায়। নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং জনসম্পৃক্ততার দিক থেকে যথাযথ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, এই সমাবেশটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে স্থান পাবে।



