দুরন্ধর ২ চলচ্চিত্রের প্রকাশনা তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ১৯ মার্চ ২০২৬, যা ঈদ-উল-ফিতরের সঙ্গে সমন্বয় করে পাঁচটি প্রধান ভাষায় একসাথে প্রদর্শিত হবে। হিন্দি, তেলেগু, তামিল, কান্নাড়া ও মালয়ালমে সংস্করণ একই দিনে থিয়েটারে আসবে, ফলে দেশের সব অঞ্চলের দর্শক প্রথম দিন থেকেই নিজের ভাষায় উপভোগ করতে পারবেন।
প্রথম অংশের একক হিন্দি রিলিজ সত্ত্বেও, দুরন্ধর সিনেমা দক্ষিণ ভারতের বাজারে অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়েছে। সামাজিক মিডিয়া, মুখে-মুখে প্রচার এবং একাধিকবার দেখার মাধ্যমে ছবিটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিশেষ করে তেলেঙ্গানা, কেরালা, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকের শহরগুলোতে টিকিট বিক্রি দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
দক্ষিণের বিতরণকারী ও থিয়েটার মালিকরা ধারাবাহিকভাবে ডাবড সংস্করণের চাহিদা প্রকাশ করে আসছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, দর্শকরা স্থানীয় ভাষায় ছবিটি দেখতে চায়, যাতে গল্পের সূক্ষ্মতা ও সংলাপের স্বাদ পুরোপুরি উপভোগ করা যায়। এই চাহিদা সামাজিক নেটওয়ার্কে ভাইরাল হয়ে ওঠে, ফলে নির্মাতাদের দৃষ্টিতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, একাধিক ভাষায় রিলিজ করা অপরিহার্য।
এই প্রেক্ষাপটে নির্মাতা দল দক্ষিণের ভক্তদের অনুরোধকে গুরুত্ব দিয়ে দুরন্ধর ২-কে পঞ্চভাষিক রিলিজের পরিকল্পনা করে। হিন্দি মূল সংস্করণের পাশাপাশি তেলেগু, তামিল, কান্নাড়া ও মালয়ালমে ডাবড সংস্করণ তৈরি করা হবে, যাতে প্রতিটি অঞ্চলের দর্শক প্রথম দিনেই নিজের মাতৃভাষায় সিনেমা উপভোগ করতে পারে।
পঞ্চভাষিক রিলিজের মাধ্যমে ছবিটি প্যান-ইন্ডিয়া এবং গ্লোবাল স্তরে একসাথে প্রচারিত হবে। এই কৌশলটি পূর্বে হিন্দি একক রিলিজে অর্জিত সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অংশে সমানভাবে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করবে। ফলে দুরন্ধর ২ শুধুমাত্র ভারতীয় বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও দৃশ্যমানতা বাড়াবে।
চলচ্চিত্রের দায়িত্বে রয়েছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক আদিত্য ধর, যিনি প্রথম অংশের সাফল্যের পর আরও বড় দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পটি গড়ে তুলতে প্রস্তুত। উৎপাদনে জিও স্টুডিওস এবং B62 স্টুডিওস যুক্ত হয়েছে, যা উভয়ই বড় বাজেটের প্রকল্পে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তাদের সমন্বয়ে ছবির ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, অ্যাকশন সিকোয়েন্স এবং গল্পের গভীরতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দুরন্ধর ২ পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে। এডিটিং, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং সাউন্ড মিক্সিং কাজ চলমান, যা ছবির চূড়ান্ত রূপকে আরও মসৃণ ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। নির্মাতারা জানান, রিলিজের আগে সব ভাষার ডাবিং সম্পন্ন হবে এবং প্রতিটি সংস্করণে স্থানীয় কণ্ঠশিল্পীর স্বর ব্যবহার করা হবে।
দুরন্ধর ২-কে ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রত্যাশিত ভারতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ঈদ-উল-ফিতরের ছুটির দিনে বড় স্ক্রিনে প্রকাশিত হওয়ায়, পরিবারিক দর্শক এবং তরুণ প্রজন্ম উভয়েরই আগ্রহ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পূর্বের হিটের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, নতুন গল্পের মোড় এবং ভিজ্যুয়াল স্পেকটাকল দর্শকদের মুগ্ধ করবে।
বহিরাগত বাজারেও ছবির রিলিজের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভারতীয় ডায়াস্পোরার পাশাপাশি কিছু বিদেশি অঞ্চলে প্রধানধারার থিয়েটার চেইনে প্রদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পদক্ষেপটি ছবির আন্তর্জাতিক আয় বাড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী ভারতীয় সিনেমার উপস্থিতি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
দুরন্ধর ২-র পঞ্চভাষিক রিলিজের মাধ্যমে নির্মাতারা একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে চাচ্ছেন। প্রথম অংশের হিন্দি একক রিলিজের সাফল্যকে ভিত্তি করে, এখন পুরো দেশকে একত্রিত করে একই সময়ে একাধিক ভাষায় চলচ্চিত্র উপস্থাপন করা হবে। এই কৌশলটি ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় প্রকল্পের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
সিনেমা প্রেমিকদের জন্য এই খবরটি উত্তেজনাপূর্ণ। ঈদ-উল-ফিতরের ছুটিতে পরিবারিক সমাবেশের সঙ্গে সঙ্গে বড় স্ক্রিনে নতুন অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার উপভোগের সুযোগ থাকবে। দর্শকরা প্রত্যাশা করছেন যে, দুরন্ধর ২-র গল্প, চরিত্র এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট পূর্বের তুলনায় আরও উন্নত হবে।
শেষে বলা যায়, দুরন্ধর ২-র পঞ্চভাষিক রিলিজের ঘোষণা চলচ্চিত্র শিল্পে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। দক্ষিণের চাহিদা মেটাতে এবং দেশের সব কোণে সমানভাবে সিনেমা উপভোগের সুযোগ দিতে এই পদক্ষেপটি প্রশংসিত হয়েছে। ১৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঈদ-উল-ফিতরের সঙ্গে এই বিশাল চলচ্চিত্রটি দর্শকের সামনে আসবে, যা দেশের সিনেমা জগতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।



