সুমি অঞ্চলের হ্রাবোভস্কে গ্রাম থেকে রাতের আক্রমণে ৫২ জন নাগরিক এবং ১৩ জন ইউক্রেনীয় সৈনিক রাশিয়ার সীমানা পার হয়ে অপহৃত হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক যৌথ বাহিনীর মুখপাত্র ভিক্টর ত্রেহুবভের মতে, প্রায় ১০০ রাশিয়ান সৈন্য শনি রাতের অন্ধকারে গ্রামটিতে ঢুকে গিয়েছিল।
আক্রমণের সময় গ্রামবাসীদের প্রথমে একটি গির্জায় জড়ো করা হয় এবং পরে সীমানা অতিক্রম করে রাশিয়ার ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়। রাশিয়ার কোনো সরকারি মন্তব্য না থাকলেও ইউক্রেনের সূত্র অনুযায়ী, অপহৃত নাগরিকদের সম্ভবত ৮০ কিলোমিটার দূরে বেলগোরদ শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সমিতির সদস্য ভলোদিমির বিটসাক জানান, তার বন্ধুর মা অপহৃত হয়েছেন এবং এখনো কোনো যোগাযোগের উপায় পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের জানার ভিত্তিতে অপহৃতরা বেলগোরদে কোনো অজানা স্থানে আটক রয়েছে।
সামরিক দিক থেকে, একই সময়ে ১৩ জন ইউক্রেনীয় সৈন্যও গ্রাম থেকে বন্দি করা হয়। ত্রেহুবভের মতে, হ্রাবোভস্কের দক্ষিণ অংশে লড়াই এখনও চলমান ছিল, তবে পরবর্তীতে রাশিয়ান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে গ্রামটি সম্পূর্ণভাবে পড়ে যায়।
মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার হ্রাবোভস্ক এবং সমীপবর্তী কয়েকটি গ্রামকে রাশিয়ান আক্রমণের লক্ষ্য বলে জানায়। একই সময়ে, ডোনেটস্কের সিভের্স্ক শহর থেকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রত্যাহার করে, যা রাশিয়ার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ বেলগোরদের কাছাকাছি অবস্থানকে শক্তিশালী করে এবং ডোনেটস্কের ‘ফোর্ট্রেস বেল্ট’ শহরগুলো—স্লোভিয়ান্সক ও ক্রামাটোরস্ক—এর দিকে রাশিয়ার দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার কমিয়ে দেয়। এই কৌশলগত পরিবর্তন রাশিয়ার পূর্ব ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণের পরিসর বাড়াতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে, নাগরিকদের জোরপূর্বক অপহরণ জেনেভা কনভেনশন ও মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে “অবৈধ সিভিলিয়ান অপহরণ” হিসেবে চিহ্নিত করে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটিকে জরুরি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের সরকার ইতিমধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় নাগরিকদের নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য জরুরি পরিকল্পনা চালু করেছে। সুমি অঞ্চলের প্রান্তিক গ্রামগুলোতে বাসিন্দাদেরকে রাশিয়ার সীমানা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার কাজ দ্রুততর করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন, যদি রাশিয়া আরও বেশি সিভিলিয়ানকে অপহরণ করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া তীব্রতর হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, হ্রাবোভস্কে ঘটিত অপহরণ কেবলমাত্র স্থানীয় নিরাপত্তা সংকট নয়, বরং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের আন্তর্জাতিক মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে রাশিয়ার সীমানা পারাপার কৌশল এবং ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া কীভাবে বিকশিত হবে, তা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।



