বিএনপি কর্মকর্তা ও পার্টির কার্যনির্বাহী সভাপতি তারিক রাহমান, তার স্ত্রী ও কন্যা সহ ১৭ বছর পর বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসছেন। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমানবন্দরে ১৮:১৫ (বাংলাদেশ সময়) বিকেলে বিমানের সময়সূচি অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে যাত্রা শুরু করবে। ফ্লাইটটি সিলেটের মাধ্যমে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুপুরের দিকে অবতরণ করবে।
বিমানবন্দরে অবতরণে সঙ্গে সঙ্গে পার্টির স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্যদের স্বাগত জানাবে। তারিক রাহমানকে গাড়িতে নিয়ে পার্টির ৩০০ ফুট এলাকা, পুরবাচলে নির্ধারিত স্বাগত অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবে। রাস্তায় উভয় পাশে সমর্থকরা সজ্জিত হয়ে তারিকের গমনপথে দাঁড়াবে।
স্বাগত অনুষ্ঠানে তারিক রাহমানের ভাষণ শেষ হলে তিনি গাড়িতে করে এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুলশানে গিয়ে তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। খালেদা জিয়া এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ঐ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
মা-সন্তানের সাক্ষাতের পর রাহমান গুলশানের ফিরোজা রেসিডেন্সে অবস্থান করবেন। পার্টি এই সফরের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে এবং গন্তব্যস্থল থেকে গন্তব্যস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
বিএনপি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রুহুল কবির রিজভি, পার্টির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল, অনুমান করেন যে রাহমানের ঘরে ফেরার দিনে ঢাকায় প্রায় পঞ্চাশ লাখ মানুষ সমাবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। সমাবেশের সময় রাস্তায় উভয় পাশে সমর্থকরা দাঁড়িয়ে স্বাগত জানাবে।
নিরাপত্তা বিষয়টি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে রাহমানের গাড়ি গুচ্ছের চারপাশে জনসাধারণের ভিড় নিয়ন্ত্রণে। গত রাতে একটি নিরাপত্তা বৈঠকে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আলোচনা হয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত রাহমানের নিরাপত্তা দায়িত্বে আছেন এ.কে.এম শামসুল ইসলাম। তার নেতৃত্বে পার্টির নিরাপত্তা দল, চিত্রা দল, যুব দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ একাধিক টিম সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
বিএনপি পার্টির বিভিন্ন শাখা, যেমন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল, নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গাড়ি গুচ্ছের রুটে শৃঙ্খলা রক্ষা করা হবে।
একই সময়ে, নিউ দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন সকল কনসুলার ও ভিসা সেবা স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিশদ ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় দল ভেঙে গিয়ে তার সদস্য ও নেতারা বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এই পরিবর্তন পার্টির সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
রাহমানের ঘরে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে পার্টি ও সমর্থকরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। রাহমানের উপস্থিতি পার্টির সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
বিএনপি নেতারা রাহমানের ফিরে আসা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে সরকারী পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
এই সফর শেষ হওয়ার পর রাহমানের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও পার্টির কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা কী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



