বিএনপি নেতা তরেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফিরে আসছেন। তার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর ও টঙ্গীর তৈরি পোশাক কারখানাগুলোকে ছুটির নির্দেশনা দেওয়ার জন্য গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানবন্দরের আশেপাশে বিশাল ভিড়ের সম্ভাবনা থাকায় যানজট সৃষ্টি হতে পারে, যা শ্রমিকদের যাতায়াত ও জরুরি আমদানি‑রপ্তানি মালামালের পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করবে। ফলে, সংশ্লিষ্ট এলাকার ফ্যাক্টরিগুলোকে ঐ দিন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে শেষ সিদ্ধান্ত কারখানার ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল।
বিজিএমইএর পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ জানান, “অনেক বছর পর তরেক রহমানের দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে লোক সমাগম বাড়বে, তাই কর্মী ও মালামাল পরিবহনে সমস্যার মুখোমুখি না হতে ছুটির ব্যবস্থা করা যুক্তিযুক্ত।” তিনি আরও যোগ করেন, “যদি কারখানা বন্ধ রাখে, তবে বন্ধের আগে বা পরে কর্মীদের জেনারেল ডিউটি করে ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব।” এই বিবেচনায়, বিজিএমইএ সদস্য ফ্যাক্টরিগুলোকে জানিয়েছে যে, ট্রাফিক স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কভার্ড ভ্যানসহ মালামাল পরিবহনের জন্য বিকল্প রুট ব্যবহার করা উচিত।
তরেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষ করে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিএনপি দল তার আগমনের জন্য বিভিন্ন সমাবেশ ও কর্মসূচি পরিকল্পনা করেছে এবং বিমানবন্দরে বিশাল জনসমাগমের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, টঙ্গী ও গাজীপুরের গার্মেন্ট শিল্পের কর্মশক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য ব্যাঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। বিজিএমইএ উল্লেখ করেছে, উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, আব্দুল্লাপুর, তুরাগ, টঙ্গী, পুবাইল, রূপগঞ্জ, কাঞ্চন ব্রিজ ও আশুলিয়া এলাকার ফ্যাক্টরিগুলো বিশেষভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
বিজিএমইএর চিঠিতে বলা হয়েছে, “বিমানবন্দরের আশ‑পাশের এলাকায় প্রচুর লোক সমাগমের কথা বিবেচনা করে, শ্রমিকদের যাতায়াত ও জরুরি মালামাল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটতে পারে।” তাই, ফ্যাক্টরিগুলোকে স্বেচ্ছায় ছুটির সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে, এবং যদি বন্ধ রাখে, তবে কর্মীদের জেনারেল ডিউটি করে ক্ষতি পূরণ করার ব্যবস্থা করা যাবে। একই সঙ্গে, ট্রাফিক স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কভার্ড ভ্যানসহ মালামাল পরিবহনের জন্য বিকল্প রুট ব্যবহার করার অনুরোধ করা হয়েছে।
বিএনপির তরেক রহমানের দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। দলটি তার আগমনের পর বড় সমাবেশের পরিকল্পনা করে, যা দেশের নিরাপত্তা ও জনসাধারণের চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। গার্মেন্ট শিল্পের এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক দিক থেকে একটি সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে কর্মশক্তি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। বিজিএমইএ উল্লেখ করেছে, ফ্যাক্টরিগুলোকে স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তবে সরকারী বা নিরাপত্তা সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোর পরিচালনা পরিষদগুলোকে কর্মী ও মালামাল পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিজিএমইএর চিঠিতে উল্লেখিত বিকল্প রুট ব্যবহার, কভার্ড ভ্যানের নিয়মিত চলাচল এবং কর্মীদের জেনারেল ডিউটি ব্যবস্থা, সবই সম্ভাব্য ট্রাফিক জ্যাম ও কর্মশক্তি ঘাটতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপি দল তরেক রহমানের দেশে ফেরার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা চালু করেছে, যা দেশের নিরাপত্তা সংস্থার নজরে থাকবে। গার্মেন্ট শিল্পের এই সতর্কতা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে রপ্তানি ভিত্তিক শিল্পে সময়মতো পণ্য সরবরাহের জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। বিজিএমইএর এই পদক্ষেপটি শিল্পের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ২৫ ডিসেম্বর তরেক রহমানের দেশে ফেরার দিন গাজীপুর ও টঙ্গীর গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোকে ছুটির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিমানবন্দরের আশেপাশে সম্ভাব্য ভিড় ও ট্রাফিক জ্যাম থেকে কর্মী ও মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। বিজিএমইএর চিঠিতে বিকল্প রুট ব্যবহার এবং কর্মীদের জেনারেল ডিউটি করে ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে, যা শিল্পের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবেশের সম্ভাব্য প্রভাবকে বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে।



