বড়দিনের ছুটি এবং পরবর্তী শুক্রবার‑শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে খাগড়াছড়ি জেলায় পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নদ, পাহাড় ও ঝর্ণার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের উদ্দেশ্যে হাজারো ভ্রমণকারী জেলায় প্রবেশ করেছে। রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি যাওয়ার পথে অনেকেই খাগড়াছড়ি গেটের সাজেক কাউন্টারে থেমে গেছেন, যেখানে ভিড়ের মাত্রা দেখা যায়।
সকালবেলা শহরের বিভিন্ন স্থান এবং গেট এলাকার সাজেক কাউন্টারে পর্যটকদের উপস্থিতি স্পষ্ট। গাড়ি ও ভ্যানের অভাবে অনেক ভ্রমণকারী প্রত্যাবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দারাও যাতায়াতে সমস্যার সম্মুখীন। গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে।
মধুপুর এলাকার বাসিন্দা শান্তিময় চাকমা জানান, আগামীকাল পরিবারের সঙ্গে গ্রামে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে কোনো পিকআপ গাড়ি না থাকায় যাত্রা সম্ভব হচ্ছে না। মাইক্রোবাসের চাহিদা তীব্র, তবে সব গাড়ি আগে থেকেই বুকিং হয়ে যাওয়ায় তিনি ভাড়া নিতে পারছেন না। তার মতই অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দারাও একই সমস্যার মুখোমুখি।
সাজেক কাউন্টার পরিচালনাকারী সৈকত চাকমা জানান, আজ সকালে মাত্র ২২১টি গাড়ি সাজেকের পথে রওনা হয়েছে। আগামীকাল থেকে শনিবার পর্যন্ত অতিরিক্ত ৪০০টি গাড়ি ইতিমধ্যে বুকিং করা হয়েছে। নতুন বছরের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে পর্যটকদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি জেলায় মোট ৪৫টি হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস রয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে অধিকাংশ হোটেল ও মোটেল সম্পূর্ণভাবে বুকিং হয়ে গেছে। সাধারণত পর্যটকরা আলুটিলা গুহা, রিচাং ঝর্ণা, দেবতার পুকুর, হর্টিকালচার পার্ক, তৈদুছড়া ঝর্ণা, বিডিআর স্মৃতিসৌধ, মায়াবিনী লেক ও শান্তিপুর অরণ্য কুঠির মতো স্থানগুলো পরিদর্শন করেন।
মিলনপুর এলাকার হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা জানান, তাদের সব কক্ষ আগামী রবিবার পর্যন্ত পূর্ণভাবে বুক করা রয়েছে। একইভাবে হোটেল অরণ্য বিলাসের ব্যবস্থাপক আহম্মদ রশিদ উল্লেখ করেন, শনিবার পর্যন্ত তাদের হোটেলে কোনো খালি কক্ষ নেই। এই পরিস্থিতি পর্যটকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া কঠিন করে তুলছে।
সাজেক ভ্যালি যাওয়ার পথে ভ্রমণকারী কনিজ সুলতানা এবং তার ১৯ জন স্বজন ঢাকা থেকে এই ছুটিতে জেলায় পৌঁছেছেন। তারা স্থানীয় দৃশ্যাবলী উপভোগের পাশাপাশি জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। তাদের উপস্থিতি পর্যটক ভিড়ের মধ্যে আনন্দের ছোঁয়া যোগ করেছে।
বড়দিনের ছুটির পরপরই নতুন বছরের আগমনও নিকটবর্তী, ফলে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়তে থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গাড়ি ও হোটেল বুকিংয়ের ঘাটতি দূর করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন। পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা হলে খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে।
সামগ্রিকভাবে, ছুটির দিনগুলোতে খাগড়াছড়ি জেলায় পর্যটক ভিড়ের মাত্রা শীর্ষে পৌঁছেছে। গাড়ি, বাস ও হোটেল সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভ্রমণকারীরা এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে উচ্ছ্বসিত। ভবিষ্যতে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটন সেবা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।



