বিএনপি তারেক রহমানের স্বদেশে ফিরে আসার উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের লিখিত অনুমতি পেয়েছে। দলটির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান রোববার রাতের মধ্যভাগে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ১৭ বছরের লন্ডন নির্বাসন শেষে ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন।
শায়রুল কবির খান জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সংবর্ধনা আয়োজনের অনুমতি লিখিত রূপে প্রাপ্ত হয়েছে। অনুমতিপত্রটি গতকাল রাত আটটার দিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর কাছে পাঠানো হয়।
অনুমতিপত্রের ডেলিভারির দায়িত্বে ছিলেন কমিশনারের অফিসের স্টাফ জাহিদ হোসেন। তিনি তা রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছে দেন। কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর তা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (দপ্তর দায়িত্বে) সাত্তার পাটোয়ারীর হাতে গ্রহণ করা হয়।
তারা একই সময়ে জানায়, তারেক রহমান নিজেই ২৫ তারিখে দেশে আসার কথা নিশ্চিত করেছেন। তার এই ঘোষণাটি ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত হয়। তারেকের প্রত্যাবর্তন দীর্ঘ সময়ের পর রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন গতিপথের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপি এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি জোরদার করতে এবং সমর্থকদের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করতে চায়। দীর্ঘদিনের নির্বাসন শেষে তারেকের ফিরে আসা পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, তার উপস্থিতি পার্টির সংগঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নতুন উদ্যম যোগাতে পারে।
অধিকন্তু, এই অনুমোদন প্রক্রিয়া দেখায় যে, সরকারী দপ্তরগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর অনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে। তবে, বর্তমান সময়ে সরকারী পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশিত হয়নি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান ও সময় সম্পর্কে এখনো কোনো সরকারি বা পার্টি পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে, দলটি ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে বলে জানা যায়।
তারেকের প্রত্যাবর্তন এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, তার উপস্থিতি পার্টির ভোটার ভিত্তি পুনর্গঠন ও নতুন কণ্ঠস্বর গঠনে সহায়ক হতে পারে।
বিএনপি এই মুহূর্তে তারেকের স্বদেশে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামো পুনর্গঠন, নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের কাজ ত্বরান্বিত করতে পারে। এদিকে, বিরোধী দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এবং সরকারের নীতি সমন্বয়ও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গঠনমূলক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে বিএনপি তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দলটি তারেকের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গড়ে তুলতে চায়, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



