চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পোমরা ইউনিয়নের সৌদিয়া গেট এলাকার কাদেরিয়া পাড়ায় আজ সকালবেলায় একটি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় পাঁচ বছর বয়সী জন্নাত আরা ও তার 55 বছর বয়সী দাদি রুবি আক্তার প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলে আটটি বাড়ি পুড়ে যায়।
আগুনের সূত্রপাতের প্রাথমিক কারণ হিসেবে শর্টসার্কিট উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে ৯৯৯ নম্বরে অগ্নিকাণ্ডের কল পাওয়া যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে দু’টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা কাজের পর ৯টা ৪৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তা আগেরই আটটি বাড়ি পুড়ে যাওয়ার পরই ঘটেছে। পুড়ে যাওয়া বাড়িগুলোর মধ্যে একটি আধা-নির্মিত এবং বাকি গুলো কাঁচা মাটির বসতঘর।
অগ্নিকাণ্ডে আটটি বাড়ি ধ্বংস হওয়ায় সাতজন বাড়ির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের নাম হল মো. ফারুক, মো. কায়েস আহমদ, মনসুর আহমেদ, জয়নাল আবেদিন, মো. এস্কেন্দার, সনজিত এবং শিরিন আক্তার।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরে থাকা অন্যান্য বাসিন্দা দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে ছোট জন্নাত আরা ও তার দাদি রুবি আক্তার গৃহের ভেতরেই পুড়ে মারা যান। তাদের মৃত্যুর কারণ গৃহের ভিতরে তীব্র তাপ ও ধোঁয়া।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক (জোন‑৩) আবদুল মান্নান ঘটনাটির বিষয়ে নিশ্চিত করেন যে, অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ শর্টসার্কিট এবং দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আগুনের তীব্রতা বাড়িতে থাকা বয়স্ক ও ছোট শিশুরা দ্রুত বেরিয়ে আসতে না পারার ফলে এই দুঃখজনক ফলাফল ঘটেছে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি আরমান হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের পেছনে বৈদ্যুতিক ত্রুটি রয়েছে। দুইজনের মৃত্যুর পর পরিবারকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক দলকে পাঠায়। তদন্তে বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন থাকলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানায়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সাময়িক আশ্রয় ও মৌলিক সহায়তা প্রদান করছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঘন ঘন বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ডে রয়েছে। বিশেষ করে পুরনো গৃহস্থালী কাঠামো ও অপর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক ইনস্টলেশন এই ধরনের বিপদের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলমান। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ উভয়ই ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে কাজ করছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



