নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) রাজ্য ২৪ ডিসেম্বর, বন্ডি বিচের সশস্ত্র হামলার পর দ্রুত নতুন আইন পাশ করেছে। ১৫ জনের মৃত্যুর সঙ্গে ৭ জন আহত হওয়া এই ঘটনার দুই সপ্তাহের কম সময়ে, আইনসভা প্রাতঃরাতে টেররিজম ও অন্যান্য আইন সংশোধনী বিল ২০২৫ অনুমোদন করে।
বন্ডি বিচের হামলা একটি ইহুদি উৎসবের সময় ঘটেছিল এবং অ্যান্টি-সেমিটিক হিংসা হিসেবে গণ্য হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজ্য সরকার নিরাপত্তা ও জনমত নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেয়।
নতুন বিধান অনুযায়ী, টেররিজম ঘোষণার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের জন্য পুলিশকে প্রতিবাদ ও সমাবেশ সীমাবদ্ধ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকায় কোনো জনসমাবেশ অনুমোদিত হবে না, এবং পুলিশ ট্রাফিক বাধা বা ভয়, হয়রানি, হুমকি সৃষ্টি করলে উপস্থিত ব্যক্তিদের স্থানান্তর করতে পারবে।
বিলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হল নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতীক প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা। এই নিয়মের মাধ্যমে সরকার এমন চিহ্ন বা লোগো ব্যবহারকে সীমাবদ্ধ করতে চায়, যা টেররিজম বা উগ্রপন্থা সমর্থন করে বলে বিবেচিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ক্রিস মিন্স এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সংস্কারকে “হেট স্পিচ” পর্যালোচনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষভাবে “গ্লোবালাইজ দ্য ইন্টিফাদা” বাক্যাংশকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে, যা সাধারণত ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের সমর্থনে ব্যবহৃত হয়।
মিন্স নতুন আইনকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন” বলে উল্লেখ করে, যদিও তিনি স্বীকার করেন যে সবাই এই পরিবর্তনের সঙ্গে একমত হবে না। তিনি বলেন, বন্ডি বিচের ভয়াবহ হামলার পর রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলেছে এবং আইনকেও তা অনুসারে পরিবর্তন করতে হবে।
অস্ত্র সংক্রান্ত বিধানও একই সাথে গৃহীত হয়েছে। নতুন নিয়মের অধীনে, কিছু ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র শুধুমাত্র কৃষকরা ব্যবহার করতে পারবে, যা সমাজে অস্ত্রের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ কমিয়ে পরিস্থিতি শীতল করার উদ্দেশ্য বহন করে।
এই আইনগুলোকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে দেখছেন কিছু নাগরিক গোষ্ঠী। বন্ডি শুটিংয়ের পর, তিনটি NSW ভিত্তিক প্রো-ফিলিস্তিন, আদিবাসী এবং ইহুদি অধিকার সংস্থা আইনটির বিরুদ্ধে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ দায়েরের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা এটিকে “অত্যধিক কঠোর” বলে সমালোচনা করেছে।
প্রতিবাদ সীমাবদ্ধতা এবং হেট স্পিচের নতুন সংজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণ হল, এই পদক্ষেপগুলো বাকস্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকারকে সীমিত করতে পারে। সমালোচকরা দাবি করেন, সরকারকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
অন্যদিকে, সরকার বলছে যে টেররিজমের হুমকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। তারা জোর দিয়ে বলছে, নতুন আইনগুলো টেররিজমের পূর্বাভাস ও প্রতিরোধে সহায়তা করবে, পাশাপাশি অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার কমাবে।
আইনগত চ্যালেঞ্জের পরিণতি এখনো অনিশ্চিত, তবে আদালতে এই বিধানগুলো কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সংবিধানিক চ্যালেঞ্জ সফল হয়, তবে সরকারকে আবার সংশোধনী প্রস্তাব করতে হতে পারে।
এই আইনগুলো NSW-তে প্রথমবারের মতো এত কঠোরভাবে প্রতিবাদ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকে একসঙ্গে সমন্বয় করেছে। ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা এবং জনমত কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের নিরাপত্তা নীতি ও মানবাধিকার সংরক্ষণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।



