হিন্দি চলচ্চিত্র ‘হোমবাউন্ড’, যা ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের জন্য শটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, বর্তমানে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। লেখক পূজা চাংগোয়ালাওলা তার ২০২১ সালে প্রকাশিত একই নামের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে ছবিটি অনধিকৃতভাবে তৈরি হওয়ার দাবি জানিয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
চাংগোয়ালাওলা ২০২১ সালে ‘হোমবাউন্ড’ শিরোনামের একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন, যেখানে ২০২০ সালের কোভিড‑১৯ মহামারীর সময় ঘটে যাওয়া অভ্যন্তরীণ অভিবাসী সংকটকে কেন্দ্র করে গল্প গড়ে তোলা হয়েছে। একই ঘটনাকে ভিত্তি করে তৈরি ছবিটি, যদিও একই পটভূমি ব্যবহার করেছে, তবু লেখকের মতে উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু, দৃশ্য, সংলাপ এবং বর্ণনামূলক কাঠামোতে অনুরূপতা রয়েছে।
লেখক উল্লেখ করেন যে ছবির দ্বিতীয়ার্ধে শিরোনাম ব্যবহার ছাড়াও উপন্যাসের বহু অংশ সরাসরি নকল করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিরোনাম ছাড়াও দৃশ্যের বিন্যাস, সংলাপের শব্দচয়ন, ঘটনাবলীর ক্রম এবং অন্যান্য সৃজনশীল উপাদানগুলো উপন্যাসের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই বিষয়গুলোকে তিনি ‘গুরুতর কপিরাইট লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
চাংগোয়ালাওলার আইনজীবী ১৫ অক্টোবর ধর্মা প্রোডাকশনসকে একটি বিশদ আইনি নোটিশ পাঠান, যেখানে উপন্যাসের প্রতিটি দৃশ্যের সঙ্গে ছবির তুলনা করে লঙ্ঘনের তালিকা প্রদান করা হয়েছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উৎপাদন সংস্থা এই অভিযোগের কোনো সাড়া দেয়নি এবং নোটিশের পরেও ছবিটি নেটফ্লিক্সে প্রচার ও বিতরণ চালিয়ে যাচ্ছে।
ধর্মা প্রোডাকশনস এবং নেটফ্লিক্সের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নোটিশের পরেও ছবিটি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চাংগোয়ালাওলা মারাঠা স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিতে আবেদন করেন, যা বোম্বে হাই কোর্টে বাণিজ্যিক মামলা দায়েরের পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।
আবেদনটি কমার্শিয়াল কোর্টস অ্যাক্ট, ২০১৫-এর ধারা ১২এ অনুসারে দাখিল করা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক বিরোধের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান চাওয়া বাধ্যতামূলক। চাংগোয়ালাওলা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছবির বিতরণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, কপিরাইট লঙ্ঘিত অংশের অপসারণ, শিরোনাম পরিবর্তন এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
লেখক উল্লেখ করেন, তিনি শক্তিশালী বিনোদন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও তা তার পেশাগত অবস্থানে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তার অধিকার রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজনীয়।
এই আইনি প্রক্রিয়ার ফলে ‘হোমবাউন্ড’ ছবির ভবিষ্যৎ বিতরণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদি আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে, তবে নেটফ্লিক্সে ছবিটি সরিয়ে ফেলতে হতে পারে, অথবা শিরোনাম ও বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্রের একাডেমি শটলিস্টে অন্তর্ভুক্তি এখনও বজায় রয়েছে, যা ছবির শিল্পগত স্বীকৃতিকে নির্দেশ করে। তবে কপিরাইট বিরোধের ফলাফল ছবির আন্তর্জাতিক প্রচার ও পুরস্কারপ্রাপ্তির সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিনোদন শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের মামলা সৃষ্টিকর্তা ও উৎপাদন সংস্থার মধ্যে সৃজনশীল অধিকার সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যেও বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
চাংগোয়ালাওলা এবং ধর্মা প্রোডাকশনসের মধ্যে চলমান আলোচনার ফলাফল আগামী সপ্তাহে আদালতে শোনার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।
এই মামলার পরিণতি কেবল দুই পক্ষের নয়, সমগ্র ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হতে পারে, যেখানে সৃষ্টিকর্তা ও উৎপাদন সংস্থার মধ্যে কপিরাইটের সীমানা স্পষ্ট করা হবে।



