গুলশানের বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার (অব.) শামসুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, তারেক রহমানের সুরক্ষার জন্য সরকার থেকে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) চাওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান নিরাপত্তা ঝুঁকি সত্ত্বেও সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে এবং প্রস্তুতি ঝুঁকির চেয়ে বেশি।
সম্মেলনের সময় শামসুল ইসলাম বলেন, “সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করছে। বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকির চেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।” এ কথায় তিনি সরকারের সম্পূর্ণ সমর্থন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপস্থিতি তুলে ধরেন।
বিএনপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন দিক থেকে সহায়তা দিচ্ছে, যার মধ্যে গাড়ি, সশস্ত্র রক্ষাকর্তা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অতিরিক্ত চাহিদা না থাকলেও, সরকার প্রয়োজনীয় সব রিসোর্স সরবরাহে প্রস্তুত।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার শিখর কয়েক সপ্তাহ আগে উঠে আসে, যখন তার মায়ের স্বাস্থ্য সংকটের সময় তিনি দেশে ফিরে না পারার বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা পায়। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি স্ট্যাটাসে তিনি নিজের অক্ষমতা ও দেশের প্রতি দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন, যা নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।
সম্প্রতি তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময়সূচি প্রকাশের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে এবং সামাজিক নেটওয়ার্কে এসএসএফ চাওয়ার দাবি উঠে আসে। কিছু বিশ্লেষক এবং বিরোধী দলের নেতারা বলেছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার ফলে অতিরিক্ত সুরক্ষা প্রয়োজন। তবে বুধবারের সম্মেলনে শামসুল ইসলাম স্পষ্টভাবে এই দাবিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেন।
বিএনপি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অতিরিক্ত অনুরোধ না থাকলেও, সরকার ইতিমধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শামসুল ইসলাম উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের পর সরকারী সংস্থা এবং নিরাপত্তা দপ্তর একত্রে পরিকল্পনা তৈরি করেছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে যথেষ্ট।
প্রতিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারী নথি বা আনুষ্ঠানিক আদেশ প্রকাশিত হয়নি যা এসএসএফ নিয়োগের নির্দেশ দেয়। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এই বিষয়টি এখনও বিতর্কের বিষয়, তবে শামসুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অতিরিক্ত চাহিদা না থাকলে সরকারী সংস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে মন্তব্য করছেন। যদি তারেক রহমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে কাজ করে, তবে তার দেশে ফিরে আসা রাজনৈতিক গতিবিধি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ঘাটতি বা অপ্রতুলতা হলে বিরোধী দলগুলো তা ব্যবহার করে সরকারকে সমালোচনা করতে পারে।
বিএনপি নেতৃত্বের মতে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পষ্টতা এবং সরকারের সহযোগিতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংলাপের মঞ্চকে স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে। শামসুল ইসলাম শেষ মন্তব্যে বলেন, “নিরাপত্তা ঝুঁকির চেয়ে বেশি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাই অতিরিক্ত এসএসএফ চাওয়া প্রয়োজন নেই।” এই বক্তব্যের ভিত্তিতে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার পরবর্তী ধাপ হবে সরকার ও দলীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা, যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা না সৃষ্টি হয়।
বিএনপি ও সরকার উভয়েরই লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া যায়। শামসুল ইসলামের এই স্পষ্ট বক্তব্যের ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুজবের পরিধি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



