ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে বুধবার বিএনপি ভাইসচেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেকের নিজস্ব কাজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সামনে শীঘ্রই নির্বাচন আসছে এবং এই প্রক্রিয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
দুদু বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের চারিদিকের ঘটনার ধারাবাহিকতা দেখায় যে বাংলাদেশে কিছু পদক্ষেপের ফলে ভারতীয় সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তিনি ইঙ্গিত করেন, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীতিমালা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখোমুখি হয়েছে।
বিএনপি নেতা উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী ৬০ লক্ষেরও বেশি মামলা দায়ের করেছেন এবং অসামি (অসামান্য) রূপে রূপান্তরিত করেছেন। তিনি এই মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, এসব মামলা দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
দুদু আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর দাবি করা কোনো ব্যাংক নেই, তবু তিনি বিদেশে টাকা পাচার ও লুটের অভিযোগে অভিযুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ নিখোঁজ, হত্যা এবং জেলে আটক হওয়ার সংখ্যা অজানা, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।
বিএনপি নেতা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে তার কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী এবং নিজের জীবন রক্ষার জন্য পালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, যারা এখনো তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে, তাদের এই সহানুভূতি কোনো ফল দেবে না, কারণ কর্মের পরিণতি শেষ পর্যন্ত কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।
দুদু উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের ওপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নাগরিকত্বের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিএনপি ভাইসচেয়ারম্যানের মন্তব্যের পটভূমিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পুনর্গঠন হবে এবং সকল রাজনৈতিক দলকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।
দুদু তর্ক করেন, বর্তমান সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের ফলে দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে ভারতীয় পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরকারকে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য নীতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিএনপি নেতা আরও উল্লেখ করেন, দেশের আইনি ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে ন্যায়বিচার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত্তি নষ্ট হবে।
দুদু শেষ করে বলেন, গণতন্ত্রের সঠিক প্রতিষ্ঠা এবং রক্ষার জন্য প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব দায়িত্ব পালন করা অপরিহার্য। তিনি আহ্বান জানান, জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে এবং সরকারের অতিরিক্ত ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করতে হবে।
এই মন্তব্যের পর, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা দুদুর বক্তব্যের প্রতি বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। কিছু বিশ্লেষক তার সমালোচনাকে সরকারের নীতি-নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তীক্ষ্ণতা হিসেবে দেখেছেন, আবার অন্যরা তাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
বিএনপি ও সরকারের মধ্যে চলমান তীব্র বিতর্কের মধ্যে, দুদুর এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে।



