চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, কাদেরিয়া পাড়া গ্রামে আজ প্রাতঃকাল প্রায় আটটায় এক বাড়িতে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় দুই প্রাণ হারিয়ে। ৫৫ বছর বয়সী রুমি আক্তার এবং তার পাঁচ বছর বয়সী নাতনি জান্নাত আক্তার আগুনে পুড়িয়ে মারা যান।
অগ্নি নির্বাপণ দল ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় এবং প্রায় এক ঘন্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দাহের তীব্রতা বাড়ি গুলিকে দ্রুত ধ্বংস করে দেয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রুমি আক্তারকে গ্রামের রুহুল আমিনের স্ত্রী হিসেবে শনাক্ত করেছে। তার নাতনি জান্নাত আক্তারকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরূপে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, বাড়িগুলো টিন ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে নির্মিত ছিল, যা আগুনের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করেছে। অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
অগ্নি সেবা কর্মকর্তার মতে, বৃদ্ধা রুমি আক্তার ঘুমের মধ্যে ছিলেন এবং আগুনের তীব্রতায় বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি, ফলে তিনি ও তার নাতনি দুজনই দাহের শিকারে পরিণত হন।
এই ঘটনার ফলে কমপক্ষে ছয়টি টিন শেড ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। ঘরগুলো একে অপরের কাছাকাছি নির্মিত হওয়ায় অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, বাড়িগুলোর ঘনিষ্ঠ অবস্থানই আগুনের দ্রুত বিস্তারের প্রধান কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অপরাধমূলক দায়িত্ব প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় মানুষজন ঘটনাস্থলে সমবেত হয়ে আহতদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ও শোক প্রকাশ করেছে। কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পুনর্নির্মাণের জন্য সাহায্য চেয়ে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে।
টিন শেডের গঠনগত দুর্বলতা ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবকে নিয়ে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ির কাঠামো ও বৈদ্যুতিক সংযোগের নিয়মিত পরিদর্শন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অগ্নি নিয়ন্ত্রণের পর, স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই দুঃখজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের সমন্বয়ে অগ্নি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা এবং পুরনো টিন শেডের পরিবর্তে টেকসই নির্মাণের দিকে অগ্রসর হওয়া জরুরি।



