দ্বিতীয় ডিসেম্বর রাতের দিকে চ্যানেল নাইন-এর বিশেষ আলোচনায়, বিএনপি স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির ওসমান হাদিরকে ‘গিনিপিগ’ বলে উল্লেখ করেন। হাদির, যিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিলেন এবং গুলিতে নিহত হয়েছিলেন, তার স্মৃতির প্রতি এই রূপকটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
অনুষ্ঠানটি ‘চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আবদুর নূর তুষার হোস্টিং করেন। মনির মন্তব্যের পর হোস্ট হাদিরের প্রতি কোনো আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান, তবে তিনি তৎক্ষণাৎ মনিরের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তুলে প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, হাদিরের নাম ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না।
মনির স্পষ্ট করে বলেন, হাদিরের মৃত্যুর পর তার দলের সদস্যসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, “হাদিরের দল থেকে এত মানুষ দেশজুড়ে আসা বা আনা হয়েছে, এতে একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখা যায়।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি হাদিরের স্মৃতিকে রাজনৈতিক মঞ্চে ব্যবহার করার সন্দেহ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, হাদির কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না এবং ইনকিলাব মঞ্চও কোনো দলীয় সংগঠন নয়, এটি একটি সামাজিক গোষ্ঠী। তিনি যোগ করেন, হাদির সমাজের দুর্নীতি, অলসতা এবং গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাই তার স্মৃতিকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা অনুচিত।
হুমায়রা নূর আরও উল্লেখ করেন, হাদিরের জানাজার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কষ্টকর, কারণ জানাজায় উপস্থিত হওয়া মানুষগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের ডাকে নয়, বরং এক মানবিক দায়িত্বের ভিত্তিতে এসেছেন। তিনি বলেন, “যারা জানাজায় এসেছেন, তারা হাদিরের জন্য এক মানবিক সম্মান প্রদর্শন করতে এসেছেন, রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নয়।”
অনুষ্ঠনে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, জামায়াতে ইসলামের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্যসহ কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অংশ নেন। সকলেই হাদিরের স্মৃতি ও তার মৃত্যুর পর রাজনৈতিক পরিবেশে তার নামের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মত প্রকাশ করেন।
মনির মন্তব্যের পর সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া দেখা যায়। অনেক ব্যবহারকারী হাদিরের পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সম্মান না দেখানোর জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। কিছু মন্তব্যে হাদিরের স্মৃতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করা হয়, অন্যদিকে কিছু লোক মনিরের বক্তব্যকে স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার হিসেবে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
এই বিতর্কের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। হাদিরের স্মৃতিকে রাজনৈতিক মঞ্চে ব্যবহার করা হলে তা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতায় প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষত, ইনকিলাব মঞ্চের সামাজিক সংগঠন হিসেবে অবস্থান ও তার সদস্যদের রাজনৈতিক সংযুক্তি নিয়ে ভবিষ্যতে স্পষ্টতা দাবি করা হতে পারে।
বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনিরের এই মন্তব্যের পরবর্তী পদক্ষেপও নজরে থাকবে। যদি তিনি ক্ষমা না চান, তবে পার্টির ভিতরে ও বাহ্যিকভাবে সমালোচনা বাড়তে পারে, যা পার্টির ইমেজ ও ভোটারদের আস্থা প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, হুমায়রা নূরের মতো নেতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমর্থন ও ব্যাখ্যা হাদিরের স্মৃতিকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার না করার জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ওসমান হাদিরের স্মৃতিকে ‘গিনিপিগ’ বলে উল্লেখ করা একটি সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সামাজিক নেটওয়ার্কে তীব্র আলোচনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মন্তব্যের প্রভাব কীভাবে রাজনৈতিক পরিবেশকে গঠন করবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



