22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিযুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তিনটি ডিজিটাল নন‑প্রফিট সংস্থার উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তিনটি ডিজিটাল নন‑প্রফিট সংস্থার উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ

ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক গ্লোবাল ডিজইনফরমেশন ইনডেক্স (GDI), যুক্তরাষ্ট্রের সিসিডিএইচ (Center for Countering Digital Hate) এবং জার্মানির হেইটএইড (HateAid) সহ তিনটি অলাভজনক সংস্থা ও তাদের প্রধান নির্বাহীদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত জানায়। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল এমন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ করা, যেগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গ্লোবাল ডিজইনফরমেশন ইনডেক্স, যা অনলাইন মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে, সিসিডিএইচ, যা সামাজিক মিডিয়ায় ঘৃণামূলক কন্টেন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করে, এবং হেইটএইড, যা হেট স্পিচ ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর আর্থিক সমর্থন কেটে ফেলতে কাজ করে, এই তিনটি সংস্থাই ভিসা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সংস্থাগুলোর প্রধান নির্বাহীরা যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে অপ্রত্যাশিত ও অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দপ্তর এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে ট্রাম্প শাসনকালে গৃহীত নীতি উল্লেখ করেছে, যেখানে সরকার সমালোচনামূলক কণ্ঠকে দমন করার জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হয়। যদিও বর্তমান প্রশাসন ভিন্ন রঙের হলেও, দপ্তর একই রকম যুক্তি দিয়ে এই সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

গ্লোবাল ডিজইনফরমেশন ইনডেক্সের মুখপাত্র উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ সমালোচনামূলক স্বরকে নীরব করতে সরকারী ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহারকে প্রকাশ করে। তিনি বলেন, “আমাদের কাজের মূল উদ্দেশ্য হল তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, তবে এখন আমাদেরকে এমন এক পরিবেশে কাজ করতে বলা হচ্ছে যেখানে স্বাধীন গবেষণা ও বিশ্লেষণকে হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।”

সিসিডিএইচ এবং হেইটএইডের নেতৃবৃন্দও একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন, ভিসা নিষেধাজ্ঞা কেবল তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং ডিজিটাল মিথ্যা তথ্য ও ঘৃণামূলক কন্টেন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করার বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে। উভয় সংস্থা উল্লেখ করে, এই ধরনের শাস্তি মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার মৌলিক নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।

ভিসা নিষেধাজ্ঞার পেছনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে ইলন মাস্কের এক্স (X) প্ল্যাটফর্ম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (DSA) সংক্রান্ত বিরোধকে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দপ্তর উল্লেখ করে, এই সংস্থাগুলো DSA‑র অধীনে ইউরোপীয় নিয়মাবলীর সমর্থনে কাজ করে, যা মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে পারে। ফলে, ভিসা নিষেধাজ্ঞা একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক বিরোধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র‑ইউকেএ, যুক্তরাষ্ট্র‑জার্মানি সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। অলাভজনক সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক তহবিল ও সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হতে পারে, যা তাদের গবেষণা ও নীতি প্রস্তাবের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তদুপরি, ভিসা নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য দেশেও অনুরূপ পদক্ষেপের পূর্বাভাস দিতে পারে, ফলে বৈশ্বিক নন‑প্রফিট সেক্টরে চাপ বাড়বে।

সংস্থাগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি আপিলের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই নিষেধাজ্ঞার বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। ভবিষ্যতে, যদি এই সংস্থাগুলোকে পুনরায় ভিসা অনুমোদন না করা হয়, তবে তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা ডিজিটাল তথ্যের স্বচ্ছতা ও ঘৃণামূলক কন্টেন্টের মোকাবিলার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সংস্থাগুলো এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এখন এই সিদ্ধান্তের প্রভাব মূল্যায়ন করে, কূটনৈতিক ও আইনি পথ অনুসন্ধান করতে হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments