ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) বুধবার ঘোষণা করেছে যে জোফরা আরচার তার বাম পাশে আঘাতের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরের বাকি অংশে অংশ নিতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে চতুর্থ টেস্টের খেলোয়াড় তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে, যা মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
আরচারের আঘাতটি বাম পাশে স্ট্রেইন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। ফলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলমান এই সিরিজের শেষ পর্যন্ত মাঠে ফিরতে পারবেন না। ইসিবি এই তথ্যটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে টেস্টের জন্য নতুন দল গঠন করেছে।
গাস অ্যাটকিনসনকে আরচারের পরিবর্তে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অ্যাটকিনসনকে এখন মেলবোর্নের বক্সিং ডে টেস্টে প্রথম দিন থেকেই মাঠে নামার সুযোগ দেওয়া হবে। তার অন্তর্ভুক্তি ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে নতুন শক্তি যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টেস্টের ব্যাটিং ক্রমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অলিভ পোপের পরিবর্তে জেকব বেটহলকে তৃতীয় ব্যাটিং অবস্থানে রাখা হয়েছে। বেটহলকে এখন নম্বর তিন ব্যাটার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা পোপের মাঝখানে থাকা ভূমিকা পূরণ করবে। এই পরিবর্তন ইংল্যান্ডের মধ্যম ক্রমের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে লক্ষ্য করা হয়েছে।
অলিভ পোপের বাদ পড়া ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন‑আপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। পোপ, যিনি পূর্বে টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক পার করেছেন, এই ম্যাচে অংশ নিতে পারছেন না। তার অনুপস্থিতি ব্যাটিং গভীরতা এবং অভিজ্ঞতা দুটোই প্রভাবিত করবে।
মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে এই বক্সিং ডে টেস্ট, যা ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়া‑ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাশেস’ সিরিজের চতুর্থ টেস্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
গাস অ্যাটকিনসনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তিনি প্রথম ক্লাসের বোলার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। দেশীয় প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে তার গতি এবং লাইন‑অফ‑লেংথের নিয়ন্ত্রণ প্রশংসিত হয়েছে, যা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুযোগের যোগ্যতা দিয়েছে।
জেকব বেটহলও সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। তিনি সীমিত ওয়ানডে এবং টি২০ ফরম্যাটে দ্রুত স্কোর করতে সক্ষম, যা ইংল্যান্ডের টেস্ট ব্যাটিংয়ে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে। তার নম্বর তিন অবস্থান এখন টেস্টের দীর্ঘ ইনিংসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ইসিবি এই পরিবর্তনগুলোকে দলীয় গভীরতা এবং বিকল্পের প্রয়োজনীয়তা হিসেবে তুলে ধরেছে। নির্বাচকরা উল্লেখ করেছেন যে টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি আঘাতের পরেও দলকে সমন্বিত রাখতে এই ধরনের সমন্বয় অপরিহার্য।
মেলবোর্নের টেস্টের পর ইংল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচ সিডিউলেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। সিরিজের শেষ টেস্ট সিডনি ওয়ানডে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আবার দলকে নতুন কৌশল ও সংযোজনের প্রয়োজন হবে।
সারসংক্ষেপে, আরচারের অনুপস্থিতি এবং পোপের বাদ পড়া ইংল্যান্ডের টেস্ট পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন এনেছে। তবে গাস অ্যাটকিনসন ও জেকব বেটহলের অন্তর্ভুক্তি দলকে নতুন শক্তি ও বিকল্প প্রদান করবে, যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



