20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাসরকার রমজানের জন্য ৪ কোটি ৭৫ লাখ লিটার ভোজ্যতেল ও ১০ হাজার...

সরকার রমজানের জন্য ৪ কোটি ৭৫ লাখ লিটার ভোজ্যতেল ও ১০ হাজার টন ডাল ক্রয় অনুমোদন করেছে

বাংলাদেশের সরকার রমজান মাসে ভোজ্যতেল ও মসুর ডালের ঘাটতি রোধ এবং বাজারের দাম স্থিতিশীল রাখতে মোট ৪ কোটি ৭৫ লাখ লিটার তেল ও ১০ হাজার টন ডাল ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গৃহীত হয়।

অনুমোদিত তেল ক্রয়ের মোট পরিমাণ ৩ কোটি ৭৫ লাখ লিটার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এবং অতিরিক্ত ১ কোটি লিটার দেশীয় সরবরাহ থেকে সংগ্রহ করা হবে। তেল ক্রয়ের জন্য মোট ব্যয় প্রায় ৬৪২ কোটি ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে ডাল ক্রয়ের জন্য ৭২ কোটি ২০ লাখ টাকা বাজেট করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রথম ধাপে নাইজেরিয়ার ভিডক ফার্মস অ্যান্ড এক্সপোর্টস লিমিটেড (ব্রাজিলের সহযোগী) থেকে ২ কোটি লিটার শোধিত সয়াবিন তেল সংগ্রহ করা হবে। এই লেনদেনে ২৪২ কোটি ৬৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় হবে এবং চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত ২ লিটার পেট বোতলে প্রতি লিটার ১২১ টাকা ৩২ পয়সা মূল্যে তেল পৌঁছাবে।

এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি রাজ্যের স্টুয়ার্ট ক্লোবানু গেরহার্ড থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং মালয়েশিয়ার সি মিলেনিয়াম ট্রেড এসডিএন. বিহাড থেকে ৫০ লাখ লিটার তেল ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উভয় লেনদেনের জন্য মোট ৬৬ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে।

স্থানীয় বাজার থেকে তেল সংগ্রহের জন্য টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা হবে। গাইবান্ধার প্রধান অয়েল মিলস লিমিটেড থেকে ২৫ লাখ লিটার, ঢাকার গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ২৫ লাখ লিটার এবং মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেড থেকে ৫০ লাখ লিটার তেল ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ক্রয়ের মোট খরচ ১৬৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা প্রতি লিটার ১৬৭ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যে নির্ধারিত হয়েছে।

ডাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার ১০,০০০ টন মসুর ডাল সরাসরি কিনতে চায়, যার জন্য ৭২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হবে। মসুর ডাল রমজান মাসে বাড়তি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাজারে সরবরাহের ঘাটতি রোধে সহায়ক হবে।

এই বৃহৎ পরিসরের ক্রয় পরিকল্পনা টিসিবি’র অধীনে গৃহীত হয়েছে এবং উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। সরকার এই পদক্ষেপকে রমজান মাসে কৃত্রিম তেল সংকট দূর করা এবং ভোক্তাদের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

প্রকৃতপক্ষে, রমজান মাসে ভোজ্যতেলের চাহিদা ঐতিহ্যগতভাবে বাড়ে, ফলে বাজারে দামের ওঠানামা দেখা যায়। আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় এবং স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের সমন্বয় দিয়ে সরকার সরবরাহের ঘাটতি পূরণে এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা, লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ এবং মুদ্রা রেটের পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার অতিরিক্ত তহবিল সংরক্ষণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল পর্যবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেবে।

সারসংক্ষেপে, রমজান মাসে ভোজ্যতেল ও মসুর ডালের ঘাটতি রোধে সরকার ৪ কোটি ৭৫ লাখ লিটার তেল এবং ১০ হাজার টন ডাল ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় ৭১ কোটি টাকা ব্যয় করবে। এই পদক্ষেপটি বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং নিম্ন আয়ের পরিবারকে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহায়তা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments