20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলেন

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলেন

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের হাতে সংবিধানের ধারা ৯৫(১) অনুসারে নেওয়া হয়েছে। তিনি ২৭ ডিসেম্বর বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের পদত্যাগের পর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

রাষ্ট্রপতি শ্রী শাহাবুদ্দিনের নির্দেশে নতুন প্রধান বিচারপতির নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির পদে পরিবর্তন ঘটলে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ প্রয়োজনীয়। এই পদক্ষেপটি দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার সংস্থার নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ২৭ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণের পরিকল্পনা করেছেন। তার অবসরকালীন তারিখের আগে নতুন প্রধান বিচারপতি নিযুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে আদালতের কার্যক্রমে কোনো ফাঁক না থাকে। এই সময়সূচি সংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা এবং বিচারিক স্বচ্ছতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইন মন্ত্রণালয় গতকাল গেজেটের মাধ্যমে এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করেছে। গেজেট নোটিশে নতুন প্রধান বিচারপতির নাম, পদবী এবং শাসনকাল উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রকাশনা সরকারি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে রেফারেন্সের জন্য সংরক্ষিত হবে।

বিচারপতি জুবায়েরের শিক্ষাগত পটভূমি বিশদভাবে দেখা যায়। তিনি এলএলবি (হনর্স) ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম এবং যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে আরেকটি এলএলএম সম্পন্ন করেছেন। এই একাডেমিক যোগ্যতা তাকে আইনি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে দক্ষতা প্রদান করেছে।

তিনি ৩ মার্চ ১৯৮৫ তারিখে জেলা আদালতে এবং ১৭ মে ১৯৯৭ তারিখে উচ্চ আদালতে অ্যাডভোকেট হিসেবে নিবন্ধিত হন। এই দুই ধাপের নিবন্ধন তাকে আদালতের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার সুযোগ দেয় এবং তার আইনি ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে তোলে।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি উচ্চ আদালতে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। অতিরিক্ত বিচারপতি পদে কাজ করার সময় তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণ করেন, যা তার বিচারিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

দুই বছর পর, ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি উচ্চ আদালতের পূর্ণ বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। পূর্ণ বিচারপতি হিসেবে তার দায়িত্বের মধ্যে উচ্চ আদালতে দায়িত্বপূর্ণ রায় প্রদান এবং আইনি নীতি রক্ষা অন্তর্ভুক্ত।

২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে উন্নীত হন। আপিল বিভাগে তার কাজের পরিধি দেশের সর্বোচ্চ আপিল আদালতে গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পদে তার অভিজ্ঞতা এবং আইনি জ্ঞানকে আরও উচ্চতর স্তরে নিয়ে গিয়েছে।

বিচারপতি জুবায়ের আন্তর্জাতিক ফোরামেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ব্রাসেলস (১৯৮৮), কানাডার প্রিন্স এডওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি (১৯৯০), মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর (২০০০, ২০০২, ২০০৬), কানাডার কুইবেক (২০০১), সিঙ্গাপুর (২০০৭) এবং নেপাল (২০১২) সহ বিভিন্ন দেশে সম্মেলন, সেমিনার এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক আইনি প্রবণতা ও নীতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান প্রদান করেছে।

নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার দায়িত্বে দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সংবিধানিক নীতি রক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি শীঘ্রই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে অফিসে প্রবেশ করবেন এবং আদালতের প্রশাসনিক ও বিচারিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবেন।

প্রধান বিচারপতির শপথ অনুষ্ঠান ও অফিসে প্রবেশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো সরকারী সূত্রে প্রকাশিত হয়নি, তবে তা অবসর গ্রহণের পরপরই অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়েরের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দেশের আইনি পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করবেন, যা ভবিষ্যৎ বিচারিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments