চিফ জাস্টিস সৈয়দ রিফাত আহমেদ ২৭ ডিসেম্বর অবসর নেবেন; তার বদলে কে আসবেন তা নিয়ে সংবিধানে স্পষ্ট কোনো বিধান না থাকায় অনুমান বাড়ছে।
রিফাত আহমেদ ২৮ ডিসেম্বর ৬৮ বছর পূর্ণ করবেন, তাই তিনি ২৭ ডিসেম্বর অবসর নেবেন। তিনি গত বছর আগস্ট ১১ তারিখে উচ্চ আদালত থেকে আপিল বিভাগে পদোন্নতি পাওয়ার পর ২৫তম চিফ জাস্টিস হিসেবে শপথ নেন।
তাঁর পূর্বসূরি ওবায়দুল হাসান ও পাঁচজন আপিল বিভাগের বিচারক আগস্ট ১০ তারিখে ছাত্র আন্দোলনের চাপের ফলে পদত্যাগ করেন, যার পর রিফাত আহমেদকে চিফ জাস্টিসের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়।
সংবিধানের ধারা ৯৫(১) অনুযায়ী চিফ জাস্টিসের নিয়োগ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব, তবে এতে চিফ জাস্টিসের সঙ্গে পরামর্শের উল্লেখ আছে। এছাড়া বিচারক ৬৮ বছর বয়স পর্যন্ত পদে থাকেন।
কয়েকজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বলছেন, চিফ জাস্টিসের নির্বাচন seniority নীতি অনুসরণ করা উচিত, তবে অতীতে সিনিয়র বিচারককে বাদ দিয়ে জুনিয়রকে নিয়োগের উদাহরণও রয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে বিচার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংবিধানে একটি ধারা যোগ করা উচিত, যাতে আপিল বিভাগের সর্বোচ্চ বয়সের বিচারককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিফ জাস্টিস করা যায়। এতে প্রেসিডেন্টের বিবেচনা সীমিত হবে।
কমিশনটি সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ করেছে, তবে সরকার এখনও এই বিষয়ে কোনো আদেশ জারি করেনি। তাই বর্তমান সময়ে চিফ জাস্টিসের পরবর্তী নিয়োগের পদ্ধতি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
সুপ্রিম কোর্টের সূত্র অনুযায়ী, পরবর্তী (২৬তম) চিফ জাস্টিসের পদে আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারক থেকে নির্বাচন করা হবে। তাদের মধ্যে বিচারক মোঃ আশফাকুল ইসলাম ১৪ জুলাই ২০২৬-এ অবসর নেবেন।
বিচারক জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৭ মে ২০২৮-এ, বিচারক মোঃ রেজাউল হক ২৩ এপ্রিল ২০২৭-এ, বিচারক এস.এম. এমদাদুল হক ৬ নভেম্বর ২০৩০-এ এবং বিচারক এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান (বিস্তারিত তারিখ অনুপস্থিত) অন্তর্ভুক্ত।
বাকি দুইজন বিচারকের অবসর তারিখ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে তারা সকলেই ৬৮ বছর বয়সের আগে পদত্যাগ করবেন না। তাই শীর্ষস্থানীয় বিচারকদের বয়স ও অবসর সময়সূচি চিফ জাস্টিসের নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে।
প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও, সংবিধানিক ধারা না থাকায় রাজনৈতিক ও আইনি বিশ্লেষকরা আশা করছেন যে ভবিষ্যতে স্পষ্ট নিয়মাবলী গড়ে তোলা হবে, যাতে বিচারিক স্বায়ত্তশাসন বজায় থাকে।
এই মুহূর্তে সরকার কোনো নতুন আদেশ প্রকাশ না করায়, চিফ জাস্টিসের পরবর্তী নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।



