ইংল্যান্ডের টেস্ট দল ক্যাপ্টেন বেন স্টোকস অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে চতুর্থ অ্যাশেস টেস্টের আগে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে দলীয় সদস্যদের অতিরিক্ত মদ্যপান নিয়ে অভিযোগ উঠার পর তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ব্রিটিশ পত্রিকাগুলো দলীয় আচরণকে “স্ট্যাগ‑ডু”র সঙ্গে তুলনা করে রিপোর্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অপ্রমাণিত ভিডিও ক্লিপ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ওপেনার বেন ডাকেটকে মদ্যপানরত ও অস্থির অবস্থায় দেখা যায় বলে ধারণা করা হয়।
ইংল্যান্ড ইতিমধ্যে প্রথম দুই টেস্ট পার্থ ও ব্রিসবেনে হারিয়ে অ্যাশেস সিরিজে পিছিয়ে আছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মধ্যে দল কোয়িন্সল্যান্ডের নুসা বিচ রিসোর্টে একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি নেয়, যা মিডিয়ার দৃষ্টিতে অপ্রয়োজনীয় পার্টি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) একটি বিবৃতি জারি করে জানায় যে ঘটনাটির প্রকৃত সত্য জানার জন্য সম্পূর্ণ তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট প্রধান রব কীও বিষয়টি নিশ্চিত করেন যে কোনো অমিল থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।
স্টোকস স্বীকার করেন যে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন রিপোর্ট ও গুজব প্রচারিত হচ্ছে, তবে তার প্রধান উদ্বেগ হল তার সহকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য। তিনি বলেন, “আমি এখনই আমার খেলোয়াড়দের মনের অবস্থা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত, এবং তাদের মেলবোর্ন টেস্টের জন্য প্রস্তুত করা আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”
ক্যাপ্টেন আরও যোগ করেন, “মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ার চাপের মধ্যে থাকা কোনো খেলোয়াড়ের জন্য সহজ নয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সঠিক পদ্ধতি গ্রহণ করা আমার দায়িত্ব।” তিনি মিডিয়া এবং অনলাইন মন্তব্যের অতিরিক্ত চাপকে উল্লেখ করে বলছেন যে এটি খেলোয়াড়দের জন্য অতিরিক্ত চাপের কারণ।
“দলীয় সকলের, এবং বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির মঙ্গলই এখন আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,” স্টোকসের এই উক্তি তার ক্যাপ্টেনশিপের মূল দিকটি স্পষ্ট করে। তিনি দলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলছেন যে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানই তার কাজের অংশ।
স্টোকস উল্লেখ করেন যে তিনি নেতৃত্বের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমর্থনকে মূল্যায়ন করেন। “যখন আপনি জানেন যে আপনার পেছনে বড়দের সমর্থন আছে, তখন এই ধরনের কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি পেতে সহজ হয়,” তিনি বলেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
যখন সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হয় যে নুসায় কোনো খেলোয়াড়ের আচরণে ভুল হয়েছে কিনা, স্টোকস উত্তর দেন যে তিনি ইতিমধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত কোনো মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নুসা রিসোর্টে ইংল্যান্ডের দল প্রথম দুই টেস্টের পর বিশাল পরাজয়ের পর বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কয়েক দিন কাটিয়েছে। সেখানে তারা প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম মিশ্রিত করে সময় কাটিয়েছে, তবে মিডিয়ার দৃষ্টিতে এই সময়টি অনুপযুক্ত পার্টি হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।
মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চতুর্থ টেস্টই এখন ইংল্যান্ডের জন্য পুনরুদ্ধারের একমাত্র সুযোগ। স্টোকস ও তার দল এই ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করে, যাতে মিডিয়া গুজবের বদলে মাঠে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সিরিজে ফিরে আসা যায়।
ইসিবি এবং স্টোকসের উভয়েরই স্পষ্ট লক্ষ্য হল বর্তমান বিতর্ককে যথাযথভাবে সমাধান করা, একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে টেস্ট সিরিজে মনোযোগ বজায় রাখা। এই পদ্ধতি দলকে পুনরুজ্জীবিত করে ভবিষ্যৎ ম্যাচে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়াবে।



