19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাথাই-কম্বোডিয়া সীমান্তের সংঘর্ষে অঙ্কোর পর্যটনে তীব্র পতন

থাই-কম্বোডিয়া সীমান্তের সংঘর্ষে অঙ্কোর পর্যটনে তীব্র পতন

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে চলমান সামরিক সংঘর্ষের ফলে সিয়েম রীপের অঙ্কোর ধ্বংসাবশেষে পর্যটক সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। উচ্চ পর্যটন মৌসুমে হলেও গাইড এবং ব্যবসায়ীরা কাজের ঘাটতির মুখোমুখি, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঙ্কোর ধ্বংসাবশেষ সিয়েম রীপ শহরের কেন্দ্রের প্রায় দুই ঘণ্টা দূরে থাই সীমান্তে অবস্থিত। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান গুলিবিদ্ধ লড়াইয়ে বহু প্রাণহানি ঘটেছে, যা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয় গাইড বুন রতনা জানান, গত ডিসেম্বর মাসে মাত্র দশটি ট্যুর বাতিল হয়েছে, ফলে তার মাসিক আয় প্রায় ৮০ শতাংশ কমে মাত্র ১৫০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে, গত বছরের একই মাসে তার আয় প্রায় ৭৫০ ডলার ছিল। এই আয়হ্রাস তার পরিবারিক জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

সংঘর্ষের মূল কারণ হল ঔপনিবেশিক যুগে নির্ধারিত সীমান্তের ওপর চলমান বিরোধ, যা মে মাসে তীব্রতা পায় এবং দুই দেশের মধ্যে স্থল সংযোগ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে জুলাই ও এই মাসে পুনরায় সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ার ফলে সীমান্ত পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বুন রতনা উল্লেখ করেন, সিয়েম রীপ শহর নিজে নিরাপদ হলেও ভ্রমণকারীরা যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে ভয় পেয়ে দূরে সরে যাচ্ছে। যদিও স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল, তবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মনোভাব পরিবর্তন হয়েছে।

সিয়েম রীপ ও ব্যাংককে কাজ করা ট্যুর এজেন্সি, বিক্রয়কারী ও টুক-টুক চালকদের মতে, সীমান্ত বন্ধ এবং পুনরায় শুরু হওয়া লড়াইয়ের ফলে ব্যবসা শূন্যে নেমে গেছে। জার্নি কম্বোডিয়া ট্যুরের প্রতিষ্ঠাতা রিম বোরেট জানান, বুকিংয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অঙ্কোর ধ্বংসাবশেষের বাইরে কাজ করা টুক-টুক চালক নোভ মাও বলেন, তার দৈনিক আয় সংঘর্ষের আগে তুলনায় অর্ধেকে নেমে গেছে।

পর্যটন খাত কম্বোডিয়ার মোট জিডিপির প্রায় দশ শতাংশ অবদান রাখে এবং গত বছর রেকর্ডভঙ্গি ৬.৭ মিলিয়ন পর্যটক দেশের পথে পা রাখে। তবে অঙ্কোর টিকিট বিক্রি জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বছরে ১৭ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা জুলাই মাসের পাঁচ দিনের তীব্র লড়াইয়ের পরপরই ঘটেছে। ঐ লড়াইয়ে বহু সৈনিকের মৃত্যু ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভয়কে বাড়িয়ে তুলেছে।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, পর্যটন শিল্পের আয় হ্রাস সরাসরি হোটেল, রেস্তোরাঁ, হস্তশিল্প বিক্রেতা এবং স্থানীয় পরিবহন সেবার উপর প্রভাব ফেলছে। গাইড, এজেন্সি ও বিক্রেতাদের আয় কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, যদি সীমান্তের সংঘর্ষ দ্রুত সমাধান হয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, তবে পর্যটক প্রবাহ পুনরুদ্ধার সম্ভব। তবে অব্যাহত লড়াই এবং সীমান্ত বন্ধের সম্ভাবনা থাকলে, অঙ্কোর পর্যটন আয় পুনরুদ্ধার দীর্ঘ সময় নিতে পারে এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে চলমান সামরিক সংঘর্ষ অঙ্কোর পর্যটন শিল্পে তীব্র আঘাত হানা দিয়েছে। গাইডের আয় হ্রাস, ট্যুর বুকিংয়ের পতন এবং টিকিট বিক্রির কমে যাওয়া সবই এই সংঘর্ষের সরাসরি ফল। ভবিষ্যতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এলে পর্যটন পুনরুদ্ধার সম্ভব, তবে বর্তমান অবস্থা ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments